বিসিবির বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যে অস্থিরতার শুরু, সেটিকে সময় বেঁধে নিয়ন্ত্রণে আনতে চায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তাই নতুন করে দায়িত্ব পাওয়া তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটির জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে শেষ সময়-৬ জুলাই। এর মধ্যেই আয়োজন করতে হবে নির্বাচন, গঠন করতে হবে নতুন পর্ষদ, আর হস্তান্তর করতে হবে দায়িত্ব।
এই সময়সীমা যেন শুধু একটি প্রশাসনিক নির্দেশ নয়, বরং একধরনের চাপের কাঠামো। কারণ, যেই প্রেক্ষাপটে বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে-নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপির অভিযোগ-তা নতুন নির্বাচনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে শুধু নির্বাচন করলেই হবে না, সেটিকে হতে হবে প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণযোগ্য।
এই জায়গাতেই এসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি সামনে আসে। একটি অ্যাডহক কমিটি, যার মেয়াদ মাত্র তিন মাস, তাকে একই সঙ্গে দুই ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একদিকে দৈনন্দিন ক্রিকেট পরিচালনা, যা থেমে থাকার সুযোগ নেই। অন্যদিকে নির্বাচন আয়োজন-যার জন্য প্রয়োজন সময়, প্রস্তুতি এবং বিশ্বাসযোগ্যতা।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাত্রাও। এনএসসি ইতোমধ্যে পুরো বিষয়টি আইসিসিকে জানিয়েছে। ফলে বিসিবির ভেতরের এই পরিবর্তন এখন আর একেবারে অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক নজরও এর ওপর রয়েছে, যা নতুন কমিটির ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
বাস্তবতা হলো, ৯০ দিনের এই সময়সীমা প্রশাসনিকভাবে যতটা সংক্ষিপ্ত, কাজের দিক থেকে ততটাই বিস্তৃত। নির্বাচন মানে শুধু ভোট নয়-প্রক্রিয়া, কাঠামো, অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা-সব মিলিয়ে একটি দীর্ঘ প্রস্তুতির বিষয়। সেই কাজই করতে হবে সীমিত সময়ের ভেতর।
এই কারণে তামিমদের অ্যাডহক কমিটি এখন সময়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে। তারা যতটা না দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জায়গায়, তার চেয়ে বেশি ‘ডেলিভারি’ দেওয়ার চাপের মধ্যে।










Discussion about this post