বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হলো আজ। দেশের ক্রিকেটের সেই নির্ভরতার নাম মুশফিকুর রহিম পা রাখলেন নিজের শততম টেস্টে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার সঙ্গেই সম্পূর্ণ হলো তার দীর্ঘ দুই দশকের যাত্রার আরেকটি মাইলফলক। বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার আগে কখনো টেস্ট ক্রিকেটে শততম ম্যাচ স্পর্শ করতে পারেননি; তাই মুশফিকের এই কীর্তি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, দেশের ক্রিকেটেরও এক অনন্য অর্জন। বিসিবি তাই দিনটিকে ঘিরে সাজিয়েছে বিশেষ আয়োজন, যেন সম্মান জানানো যায় দেশের সর্বাধিক দীর্ঘমেয়াদি এই টেস্ট যোদ্ধাকে।
টসের পর থেকেই ঢাকায় শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতার এক রঙিন পর্ব। সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করেন মুশফিক। মুহূর্তেই গ্যালারির উচ্ছ্বাসে যেন আরেকবার মনে পড়ে যায় তার দীর্ঘ পথচলার গল্প। এক মিনিট পর, ৯টা ১৭-তেই হাবিবুল বাশার দান করেন বিশেষ টেস্ট ক্যাপ, যিনি লর্ডসে মুশফিককে প্রথম টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছিলেন দুই দশক আগে।
অতীত ও বর্তমানের সেতুবন্ধন যেন একই ফ্রেমে ধরা দিল ওই মুহূর্তে। কিছুক্ষণ পর, ৯টা ১৯–এ ইতিহাসের আরও একটি অধ্যায়ের সঙ্গে তাকে যুক্ত করেন আকরাম খান, দেশের প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার; তার হাতে তুলে দেন বাক্সবন্দি বিশেষ ক্যাপ, যা এই অর্জনের প্রতীক হিসেবে দিনটিকে আরও গৌরবময় করে তোলে।
এরপর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন উপহার দেন একটি বিশেষ স্মারক। মুশফিকের সতীর্থদের স্বাক্ষরে সাজানো জার্সি তাকে তুলে দেন তার দুই অধিনায়ক, প্রথম টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া হাবিবুল বাশার এবং শততম টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত। সকাল ৯টা ২২ মিনিটে শান্ত বক্তব্য দিয়ে দলের অনুভূতি তুলে ধরেন, আর পরে নিজের পক্ষ থেকে কথা বলেন মুশফিক। তার কণ্ঠে ছিল বিনয়, স্মৃতি, শৈশবের সংগ্রাম এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি এক অটুট দায়িত্ববোধ।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে দলীয় ছবিতে জমে ওঠে দিনের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। স্ট্যান্ডে উপস্থিত ছিলেন মুশফিকের বাবা-–মা ও পরিবার, যাদের সামনে দাঁড়িয়ে এমন মাইলফলক স্পর্শ করার অনুভূতি ছিল তার জন্য বিশেষ এক আবেগ। গ্যালারিতে ছিলেন মুশফিক-ভক্তদেরও একটি অংশ; তারা উৎসাহ আর ভালোবাসায় রঙিন করে তুলেছেন স্টেডিয়ামের পরিবেশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েকদিন ধরে চলছিল শুভেচ্ছার বন্যা! দেশের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা একে একে জানাচ্ছিলেন অভিনন্দন, প্রশংসা ও ভালোবাসা। বিসিবি এ উপলক্ষে একটি অনন্য উদ্যোগও নিয়েছে, স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের জন্য বিনা টিকিটে ম্যাচ দেখার সুযোগ। পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখলেই তারা প্রবেশ করছেন ৫ নম্বর গেট দিয়ে, বসছেন শহীদ মুশতাক স্ট্যান্ডে, আর মাঠে রয়েছে বিনা খরচে পানি পানের ব্যবস্থাও।










Discussion about this post