বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান দুরবস্থার জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করলেন এলআর গ্রুপের চেয়ারম্যান, আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ক্রিকেট ক্লাবের স্বত্বাধিকারী লুৎফর রহমান বাদল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে কূটনৈতিক ব্যর্থতার বিশ্বরেকর্ড দেখলাম আমরা। বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে এই মুহূর্তে যা ঘটে চলছে, এমন বিরল ঘটনা সম্ভবত বিশ্ব ক্রিকেটে কোথাও ঘটেনি।
অথচ বাংলাদেশের ক্রিকেট এত দ্রুত বিশ্বপরিমণ্ডলে পরিচিতি ও স্বীকৃতির পেছনে ছিল ক্ষুরধার কূটনৈতিক সাফল্য। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন-
ফেসবুক পোস্টে এলআর গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ক্রিকেটের টেস্ট স্ট্যাটাস এসেছিল ক্রিকেট প্রশাসক ও বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরম বন্ধু জগমোহন ডালমিয়ার হাত ধরে। তার সঙ্গে বিসিবির বন্ধুত্বে প্রতিফলন ঘটেছিল দুই হাজার সালে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাসে। দীর্ঘমেয়াদী এই বন্ধুত্বের ফলশ্রুতিতেই আহম মোস্তফা কামলের মতো একজন অযোগ্য ব্যক্তিও আইসিসির প্রেসিডেন্ট হন- কারণ বাংলাদেশ তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কূটনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে ছিল।
তিনি আরও বলেন, অথচ গণ অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট বানানো হলো এমন একজনকে, যিনি আইসিসির একজন মধ্যমসারির কর্মচারী ছিলেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমেই মূলত আমাদের ক্রিকেটীয় আন্তর্জাতিক কূটনীতির পতন শুরু। জুলাই অভ্যুথানের পর আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ এমন ব্যক্তিদের কাছে দেয়া হয়েছে যারা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নন।
প্রবল হঠকারিতায় তারা আইসিসির একজন চাকুরিজীবিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তথা ‘বস’ বানিয়ে দেন। যার ফল আমরা দেখতেই পাচ্ছি এখন। কর্মচারী যখন বস হয়ে গেলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি অন্য ক্রিকেট বসদের আচরণ স্বাভাবিকভাবেই হয়ে গেল কর্মচারীসূলভ। এর প্রতিফলন নিয়মিতভাবেই দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের নানা কূটনৈতিক ব্যর্থতায়। যারা এই ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট অফিসারকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের শীর্ষ কর্তা বানিয়েছেন এই ব্যর্থতার দায় কিন্তু তাদেরই।
লুৎফর রহমান বাদল আরও লিখেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে হঠাৎ এই সমস্যা কেন উদ্ভূত হলো? এতো বছর পর যখন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখার পালা, নতুনভাবে সাফল্যের পথে যাত্রা শুরুর কথা তখন কেন বাংলাদেশের ক্রিকেট গভীর অমানিশা ও হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে? এর মূল কারণ হচ্ছে- অদক্ষতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে ধুঁকছে বাংলাদেশের ক্রিকেট।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ে যারা আছেন তাদের কেউ কেউ হয়তো ক্রিকেটার হিসেবে সফল ছিলেন, কিন্তু তারা কোনোভাবেই সংগঠক ছিলেন না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারা সংগঠন পরিচালনা করতে গিয়ে অথৈ সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে। আবার শীর্ষ পর্যায়ে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন, যাদের তৃতীয় সারির দল পরিচালনার সক্ষমতাও ছিল না। ক্রিকেট খেলা তো দূরের কথা। আর সংগঠন পরিচালনায় দূরদৃষ্টি ও কূটনৈতিক জ্ঞানের অভাব তো রয়েছেই।
তিনি বলেন, ফলে যা হবার তা-ই হচ্ছে। আজ আমাদের বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না, ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্রিকেটের মান নিন্মমুখী, কিছুদিন পর মানসম্পন্ন বিদেশি দলও আমাদের দেশে আসতে অনীহা দেখাবে। আর কত অধঃপতন হলে বাংলাদেশের জনগণের প্রাণের ক্রিকেট নিয়ে হর্তাকর্তাদের বোধোদয় হবে?










Discussion about this post