সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ধীরগতির উইকেটে ১৪৪ রান তাড়া করা সহজ কোনো কাজ ছিল না। বিশেষ করে বিপিএলের চলতি আসরে এই মাঠে মাঝারি লক্ষ্যও অনেক সময় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সিলেট টাইটান্সও শুরুতে সেই বাস্তবতাই সামনে আনে। নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে তারা রংপুর রাইডার্সকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংয়ের কাছে হার মানতে হয় স্বাগতিকদের।
রংপুরের জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব ছিল আলাদা। আগের দিন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শেষ বলে এক রান নিতে না পারায় যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তার রেশ কাটানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই ম্যাচে সুপার ওভারে হারের পর সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ঠিক একদিন পরই যেন সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন তিনি।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে ডেভিড মালান ও লিটন দাস ধীরে এগোচ্ছিলেন। তবে পাওয়ার প্লের মধ্যেই মালান ফিরে গেলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। এরপর তাওহীদ হৃদয়ও ইনিংস বড় করতে পারেননি। লিটন দাস কিছুটা সময় উইকেটে থাকলেও চাপ সামলে দ্রুত রান তুলতে ব্যর্থ হন। তার বিদায়ে আবারও সমীকরণ কঠিন হয়ে পড়ে রংপুরের জন্য।
কাইল মেয়ার্স দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করলেও কঠিন উইকেটে রান গতি পাচ্ছিল না। তিনি আউট হওয়ার সময় রংপুরের প্রয়োজন ছিল ৩১ বলে ৫০ রান, হাতে উইকেটও সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে মাহমুদউল্লাহ ও খুশদিল শাহর হাতে। ঝুঁকিহীন ক্রিকেট খেলেই তারা ধীরে ধীরে ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেন।
বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজের এক ওভারে মাহমুদউল্লাহর তিনটি চার ও একটি ছক্কা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। এরপর আমির ও খালেদের ওভারগুলোতে হিসেব করে রান তুলতে থাকেন দুজন। শেষ দিকে যখন প্রয়োজন ছিল অল্প কিছু রান, তখন আর কোনো নাটকীয়তার সুযোগ দেননি মাহমুদউল্লাহ। ফাইন লেগ দিয়ে চার মেরে ম্যাচ প্রায় শেষ করে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৬ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় সিলেট টাইটান্স। সাইম আইয়ুব ও মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত ফিরে গেলে চাপ বাড়ে। মিরাজকে আউট করার মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন মুস্তাফিজুর রহমান। পাওয়ার প্লের মধ্যেই রনি তালুকদার ও পারভেজ হোসেন ইমন আউট হলে সিলেট পিছিয়ে পড়ে।
ইথান ব্রুকস ও আফিফ হোসেন জুটি গড়ে ইনিংস টানার চেষ্টা করেন। একসময় মনে হচ্ছিল এই জুটিই সিলেটকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেবে। তবে সময়মতো আঘাত হেনে দুজনকেই ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ ও ফাহিম আশরাফ। শেষ চার ওভারে দ্রুত উইকেট হারিয়ে বড় স্কোর গড়ার সুযোগ নষ্ট করে সিলেট। ফলে আফিফ ও ব্রুকসের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাদের ইনিংস থামে ১৪৪ রানে।
মুস্তাফিজ ও ফাহিম তিনটি করে উইকেট নিয়ে রংপুরের বোলিংকে শক্ত ভিত দেন। পরে ব্যাট হাতে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে পরিকল্পিত ফিনিশিং রংপুর রাইডার্সকে এনে দেয় স্বস্তির জয়।










Discussion about this post