ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টির (আইএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ছিল উত্তেজনার আবহ। প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে ফাইনালে ওঠার সুযোগ নষ্ট করলেও এবার আর পিছিয়ে থাকেনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এমিরেটস। সাকিব আল হাসানের কার্যকর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে আবুধাবি নাইট রাইডার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে ফাইনালের টিকিট।
ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খেতে থাকে আবুধাবি নাইট রাইডার্স। মাত্র ২ রানে ওপেনার মাইকেল পেপার আউট হওয়ার পর দ্রুত ফেরেন ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেন ও লিয়াম লিভিংস্টোন। পাওয়ারপ্লেতেই টপ অর্ডার ভেঙে পড়ায় দলটি বড় বিপদে পড়ে। এক প্রান্তে উইকেট পড়তে থাকায় রানের গতি ধরে রাখতে পারেননি অ্যালেক্স হেলসও। ৩৬ বল খেলে তিনি করেন মাত্র ২৯ রান, যা দলের স্কোরবোর্ডে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
নাইট রাইডার্সের ইনিংসে একমাত্র উজ্জ্বল মুখ ছিলেন আলিশান শরাফু। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই ব্যাটার দায়িত্ব নিয়ে খেলেন ৪০ বলে ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২০ রানের বেশি করতে পারেনি আবুধাবি।
এমিরেটসের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন গাজানফার, যিনি নেন ৩ উইকেট। ফজলহক ফারুক ও মোহাম্মদ রশিদ নেন দুটি করে উইকেট। সাকিব আল হাসান উইকেট না পেলেও ইনিংসের শুরুতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে দলের ওপর চাপ কমান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে মুম্বাই এমিরেটসের শুরুটাও ছিল নড়বড়ে। মাত্র ৬ রানেই আউট হন আন্দ্রে ফ্লেচার, আর মোহাম্মদ ওয়াসিমও দ্রুত ফিরে যান। ৭.১ ওভারে ৩৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে দলটি। ঠিক তখনই হাল ধরেন সাকিব আল হাসান ও টম ব্যান্টন।
দুজনের ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে এমিরেটসের হাতে। ৫৩ বলে ৮২ রানের জুটিতে মূলত শেষ হয়ে যায় নাইট রাইডার্সের লড়াই।
সাকিব আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ২৪ বলে ৩৮ রান করেন, যেখানে ছিল পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা। তিনি আউট হলেও জয় তখন প্রায় নিশ্চিত। ব্যান্টন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৫৩ বলে ৬৪ রান করেন এবং দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।
এর আগে বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দেওয়া সাকিব ব্যাট হাতেও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হন। দীর্ঘদিন বড় রান না পেলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন পারফরম্যান্স তার অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি ছিল তার ৪৬তম ম্যাচসেরা পুরস্কার।
এই জয়ের ফলে আইএল টি-টোয়েন্টির চলতি আসরে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এমিরেটস। ২০২৪ আসরের চ্যাম্পিয়নরা এবারও শিরোপার দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিল, আর সেই অভিযানের কেন্দ্রে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন সাকিব আল হাসান।










Discussion about this post