বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত নাজমুল হোসেন শান্ত। জাতীয় দলের দরজা আপাতত বন্ধ থাকলেও নিজেকে প্রমাণের লড়াই থামাননি তিনি। সেই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হিসেবে শান্ত বেছে নিয়েছেন ২০২৬ বিপিএল। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক হয়ে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আলো কেড়ে নিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
এর আগের বিপিএলে ফরচুন বরিশালের হয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি শান্ত। এবারের আসরে সেই আক্ষেপ যেন ব্যাটে–বলে পুষিয়ে দিচ্ছেন তিনি। সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে সেঞ্চুরি করে রাজশাহীর জয় নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই নিজের বার্তা পরিষ্কার করে দেন শান্ত। চার ম্যাচে ২০৩ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হওয়ার পাশাপাশি গড় ও স্ট্রাইকরেট—দুটিতেই নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছেন তিনি।
শুধু রান নয়, রাজশাহীর সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে শান্তর নেতৃত্ব। চার ম্যাচে তিনটি জয় এনে দিয়ে দলকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে তুলে এনেছেন তিনি। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে চাপের মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে শেষ ওভার ও সুপার ওভারে রিপন মন্ডলকে দিয়ে বোলিং করানো, শান্তর ম্যাচ বোঝার সক্ষমতাকেই সামনে এনেছে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহীর প্রধান কোচ হান্নান সরকার শান্তর প্রশংসা করে বলেন, বিপিএলই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার জায়গা। শান্ত যেভাবে খেলছে, তাতে নির্বাচকদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তার মতে, বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় শান্তর নাম উঠে এলে সেটি অস্বাভাবিক কিছু হবে না।
আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আইসিসির কাছে দল জমা দেওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও বিসিবি এখনো দল ঘোষণা করেনি। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ পরিবর্তনের সুযোগ থাকায় বিপিএলের পারফরম্যান্স এখন বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।










Discussion about this post