ইডেন গার্ডেন্সে নিজেদের বানানো ফাঁদেই আটকে গেল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার পরও দ্বিতীয় ইনিংসের ভঙ্গুর ব্যাটিং ভারতকে কঠিন মূল্য দিতে হলো। মাত্র ১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পুরো দল গুটিয়ে গেল ৯৩ রানে। আড়াই দিনেই শেষ হয়ে যাওয়া টেস্টে প্রোটিয়ারা তুলে নিল ৩০ রানের দারুণ এক জয়, ভারতের মাটিতে যা তাদের ১৫ বছর পর টেস্ট জয়ের সাক্ষী করল।
খেলার সূচনাটা ভারতের জন্য মোটেও খারাপ ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৩ রানে থামিয়ে প্রথম ইনিংসের ৩০ রানের লিড ধরে রেখেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ছিল। কিন্তু সেই সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ব্যাটিং লাইনআপ। ম্যাচের শুরু থেকেই সমালোচিত হয়ে আসা ইডেনের অসমান পিচ রান তাড়ায় আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। চতুর্থ ইনিংসে ১২০ রানও কঠিন হবে, চেতেশ্বর পুজারার এমন মন্তব্য খেলার আগের দিনই আলোড়ন তোলে। পরদিন মাঠে নেমে দেখা গেল সেটিই বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের রান তাড়ার শুরু থেকেই বিপর্যয়। প্রথম ওভারেই মার্কো ইয়ানসেন ফিরিয়ে দেন যশস্বী জয়সওয়ালকে, যিনি ঘরের মাঠে টানা ১৬ ইনিংস পর ডাক মারলেন। তৃতীয় ওভারেই ইয়ানসেন তুলে নেন লোকেশ রাহুলের উইকেট। ১ রানে দুই ওপেনার হারিয়ে দিশাহারা অবস্থায় পড়ে দল। ওয়াশিংটন সুন্দর ও ধ্রুব জুরেল চেষ্টা করেছিলেন ইনিংস মেরামতের, কিন্তু সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১৩ রানের ইনিংসে জুরেল অযথা বড় শট খেলতে গিয়ে সাইমন হারমারের শিকার হন। এই হারমারই পরিণত হন ভারতের ব্যাটিং ধসে মূল অস্ত্রে।
ওয়াশিংটন সুন্দর লড়াই চালিয়ে যান। তার ব্যাটেই আসে ভারতের ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩১ রান। কিন্তু অন্যপ্রান্তে কেউ দাঁড়াতে না পারায় চাপ বাড়তেই থাকে। ঋষভ পান্ত ফিরে যান মাত্র ২ রানে। এরপর জাদেজা (১৮) ও অক্ষর প্যাটেল (২৬) কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি। ঘাড়ের চোটের কারণে নেতৃত্ব দিতে না পারা শুবমান গিল ব্যাটিংয়েও নামতে পারেননি, যা ভারতকে আরও বড় ক্ষতির মুখে ফেলে।
ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা। সাইমন হারমার দুই ইনিংস মিলিয়ে অসাধারণ বোলিং করে দ্বিতীয় ইনিংসেই নেন ৪ উইকেট। ২টি করে উইকেট যুক্ত করেন মার্কো ইয়ানসেন ও কেশব মহারাজ। ইডেনের স্পিন সহায়ক উইকেটে ভারতের ব্যাটাররা হারমারের বল সামলাতেই সবচেয়ে বেশি বেগ পান। পিচের বাউন্স, টার্ন এবং ধীরগতির আচরণ ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করে তুলেছিল প্রতিটি মুহূর্তে।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে টেম্বা বাভুমা হয়ে ওঠেন দলের ত্রাতা। আগের দিন ২৯ রানে অপরাজিত থাকা বাভুমা খেলেন ১৩৬ বলের শান্ত, ধীরস্থির ও দায়িত্বশীল এক ইনিংস। ৫৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ১৫৩ পর্যন্ত নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তার ব্যাটেই দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে নেয় লিড এবং ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড় করায়। করবিন বোশও ২৫ রানে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। মাঠে বাভুমার দৃঢ়তা এমন ছিল যে ইডেনের স্পিন–পেসের উভয় ধরনের আক্রমণই তাকে বিচলিত করতে পারেনি। দর্শকেরাও তাকে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানান তার ফিফটি পূর্ণ হওয়ার মুহূর্তে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৫৯ ও ১৫৩ (বাভুমা ৫৫*, বশ ২৫; জাদেজা ৪/৫০, কুলদীপ ২/৩০)
ভারত: ১৮৯ ও ৯৩ (সুন্দর ৩১, অক্ষর ২৬; হারমার ৪/২১, ইয়ানসেন ২/১৫)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: সাইমন হারমার










Discussion about this post