পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে যে উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল, তার রেশ এখন পৌঁছে গেছে বিশ্ব ক্রিকেটের কেন্দ্রেও। কারণ মাঠে যে দুই ক্রিকেটার বাংলাদেশের সাফল্যের সবচেয়ে বড় ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, তাদের নামই উঠে এসেছে আইসিসির মে মাসের সেরা ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম-দুজনই এখন মাসসেরার পুরস্কারের দাবিদার।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারানো শুধু একটি সিরিজ জয় নয়, বরং সামর্থ্যের নতুন ঘোষণা। আর সেই ঘোষণার দুই প্রধান মুখ ছিলেন মুশফিক ও তাইজুল। একজন ব্যাট হাতে দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে প্রতিপক্ষকে হতাশ করেছেন, অন্যজন বল হাতে বারবার ভেঙেছেন পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের ভিত।
মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ারে বড় ইনিংস নতুন কিছু নয়। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজে তার ব্যাটিং ছিল অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং দায়িত্ববোধের এক নিখুঁত উদাহরণ। দুই টেস্টে ২৫৩ রান করে তিনি শুধু সিরিজের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের একজনই হননি, দলের ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রথম টেস্টে ৭১ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশের লড়াইয়ের ভিত্তি তৈরি করেছিল।
আর সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে তার ১৩৭ রানের ইনিংস পাকিস্তানের জন্য হয়ে ওঠে বড় ধাক্কা। সেই ইনিংসেই মূলত সিরিজ জয়ের পথ প্রশস্ত হয়।
মুশফিকের ব্যাট যখন রান তুলছিল, তখন অন্য প্রান্তে পাকিস্তানের ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন তাইজুল ইসলাম। বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের এই নির্ভরযোগ্য সদস্য পুরো সিরিজজুড়ে ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। দুই ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। তার গড় ১৯.৬১-যা প্রমাণ করে কতটা কার্যকর ছিলেন তিনি।
বিশেষ করে সিলেট টেস্টে তাইজুলের স্পেল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেন। দীর্ঘ সময় ধরে নিখুঁত লাইন-লেংথ বজায় রেখে বোলিং করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতাই তাকে আলাদা করে তুলেছে। শুধু বোলিং নয়, ব্যাট হাতেও ৫৮ রান করে দলের জন্য কার্যকর অবদান রেখেছেন তিনি।
বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারের সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছেন নেপালের অলরাউন্ডার দীপেন্দ্র সিং আইরি। বিশ্বকাপ লিগ-২-এ ব্যাট ও বল হাতে সমান পারদর্শিতা দেখিয়ে তিনি নিজের দাবি শক্ত করেছেন। ছয় ম্যাচে ২৪৯ রান এবং ৮ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন নেপালের অন্যতম সেরা পারফর্মার। ফলে পুরস্কারের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও জমে উঠেছে।
তবে এই মনোনয়নের গুরুত্ব কেবল একটি ব্যক্তিগত পুরস্কারের সম্ভাবনায় নয়। এটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অগ্রগতিরও প্রতিফলন। বহু বছর ধরে দেশের ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের অবদান যেমন ধারাবাহিকতার প্রতীক, তেমনি তাইজুল ইসলাম নীরবে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ম্যাচজয়ী বোলারে পরিণত হয়েছেন।








Discussion about this post