শেষ উইকেটে বাবর আজম ও মোহাম্মদ আব্বাস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা শুধু হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। নাটকীয় কোনো প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়নি পাকিস্তানের। আব্বাস আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৯০ রানের পরাজয় নিশ্চিত হয় সফরকারীদের। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান অলআউট হয়েছে মাত্র ১২০ রানে। চতুর্থ দিনের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে ওঠায় লক্ষ্য সহজ ছিল না। তবে পাকিস্তানের ব্যাটিং যে এতটা ভেঙে পড়বে, তা খুব কমই প্রত্যাশা করেছিলেন কেউ।
ইনিংসের শুরু থেকেই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। মাত্র ৭১ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। শেষ উইকেটে বাবর আজম ও মোহাম্মদ আব্বাস ৪৯ রানের জুটি গড়ে দলকে একশ রানের গণ্ডি পার করান। কিন্তু সেটি পরাজয় ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। এক সেশনের কিছু বেশি সময় ব্যাট করে ৪০.২ ওভারে ১২০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
আগামী ২ আগস্ট পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। টানা চতুর্থ টেস্ট হার নিয়ে সেই ম্যাচে নামবে বাবর আজমের দল। সর্বশেষ ১৭ টেস্টের মধ্যে পাকিস্তান হেরেছে ১৩টিতে। প্রতিপক্ষের মাঠে এটি তাদের টানা অষ্টম টেস্ট হার, যা বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ টানা পরাজয়ের রেকর্ডকে আরও দীর্ঘ করেছে। ঘরের বাইরে পাকিস্তান সর্বশেষ টেস্ট জিতেছিল ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
এর আগে চতুর্থ দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে কিছু মূল্যবান রান যোগ করে। তৃতীয় দিন শেষে অষ্টম উইকেটে ৩৩ রানের জুটি গড়া কেমার রোচ ও শামার জোসেফ সকালে আরও রান যোগ করেন। এ সময় একটি ক্যাচ হাতছাড়া করেন উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৩৮ রান করা জোসেফ আউট হওয়ার পর শেষ দুই উইকেটে আরও ২৭ রান যোগ করে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ১৮১ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। তিনি ২২ রানে ৫ উইকেট নেন। ১৯৯৫ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম প্রতিপক্ষের ২০টি উইকেটই পাকিস্তানের পেসারদের দখলে যায়।
তবে বোলারদের সেই সাফল্যকে কাজে লাগাতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। ক্যারিবীয় চার পেসারের তোপে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। তিন নম্বরে নেমে বাবর আজম একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ৫৮ রানে অপরাজিত থাকলেও অন্য প্রান্তে কার্যকর কোনো সঙ্গী পাননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান আসে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নামা মোহাম্মদ আব্বাসের ব্যাট থেকে। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা শান মাসুদ ভাঙা আঙুল নিয়েই ব্যাট করতে নেমে করেন মাত্র ৩ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জেডন সিলস ২০ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। জাস্টিন গ্রিভস ও কেমার রোচ নেন দুটি করে উইকেট। আগের দিন পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে টানা পাঁচ ওভারে কোনো রান না দিয়ে প্রতিটি ওভারেই উইকেট নেওয়া গ্রিভস চতুর্থ দিনও নিজের প্রথম দুই ওভারেই উইকেট তুলে নেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই প্রথম কোনো টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররাই প্রতিপক্ষের ২০টি উইকেটের সবকটি দখল করেন।
টেস্ট ইতিহাসে এটি পঞ্চমবারের মতো এমন ম্যাচ, যেখানে দুই দলের পেসাররা মিলেই ৪০টি উইকেট নিয়েছেন। ক্যারিবীয় অঞ্চলে এমন ঘটনা ঘটল প্রথমবার। সর্বশেষ ১১ টেস্টে এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাত্র দ্বিতীয় জয়। তবে এই জয় তাদের জন্য বিশেষ হয়ে উঠেছে আরেকটি কারণে। কয়েক দিন আগে প্রয়াত কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সের জন্মদিনেই এসেছে এই সাফল্য।










Discussion about this post