অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন গতিময় পেসার নাহিদ রানা। অস্ট্রেলিয়ার বাউন্স ও পেস-সহায়ক উইকেটে তার গতি কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মিনহাজুল আবেদীন নান্নুও।
মঙ্গলবার মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নান্নু বলেন, ‘অবশ্যই মিস করব। কারণ, আমাদের এই দ্রুতগতির বোলার, এই উপমহাদেশে তো এত গতির বোলার নেই। সেই হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আমাদের একটা সুযোগ ছিল। এই সুযোগটা আমরা দেখতে পারিনি। আগামীতে ইনশা আল্লাহ আবার দেখব।’
স্বল্প সময়েই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন রানা। ১২ টেস্টে তাঁর শিকার ৩৮ উইকেট। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে দুটি। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এবং চলতি বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে তাঁর দুই ফাইফারের ম্যাচেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডেতেও ধারাবাহিকভাবে সাফল্য দেখিয়েছেন এই পেসার। প্রথম পাঁচ ম্যাচে একবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর পরের ১০ ওয়ানডেতে আরও তিনবার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকার করেছেন।
সবশেষ জিম্বাবুয়ে সফরের প্রথম ওয়ানডেতে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন রানা। তবে ওই সফরে তাঁকে সীমিত সংখ্যক ম্যাচ খেলানো হয়। একমাত্র টেস্টে ছিলেন না, আর দুটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেন। ১৭ জুলাই বুলাওয়েতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির মাঝপথে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। ২.৩ ওভারে ১৫ রান দিয়ে নিয়েছিলেন একটি উইকেট।
জিম্বাবুয়ে সিরিজে তাঁকে খেলানো উচিত হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নও উঠেছে। তবে নান্নুর মতে, বিষয়টি নিয়ে এখন নতুন করে বিচার করার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, ওই সিরিজটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ এবং রানার চোটকে তিনি নিছকই একটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, একজন ক্রিকেটার তিন সংস্করণেই খেলার মতো ফিট থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সব ফরম্যাটেই তাকে বিবেচনা করা হয়। চোট যেকোনো সময়, এমনকি অনুশীলনেও লাগতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে রানার। চলতি বছরের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেন তিনি। চার ম্যাচে নেন পাঁচ উইকেট, যার মধ্যে একটি ওয়ানডেতে ৪১ রানে চার উইকেট শিকারের পারফরম্যান্সও ছিল।
রানা না থাকলেও বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে আশাবাদী বিসিবি। অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে আছেন তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও অনভিষিক্ত মুশফিক হাসান। নান্নুর বিশ্বাস, গত চার-পাঁচ বছরে বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিট যে উন্নতি করেছে, সেটির ধারাবাহিকতা এবারও বজায় থাকবে। তাঁর মতে, বর্তমান দলে থাকা পেসারদের সামর্থ্য আছে ভালো বোলিং করার এবং তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক পারফরম্যান্সই প্রত্যাশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
বাংলাদেশের জন্য আরেকটি আক্ষেপের বিষয়, রানার অনুপস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ও ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপও। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকেতে। বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে আট ম্যাচে সাত জয় নিয়ে ৮৭.৫০ শতাংশ সফলতা নিয়ে শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে চার নম্বরে থাকা বাংলাদেশের সফলতার হার ৫৮.৩৩ শতাংশ।










Discussion about this post