অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণার আগেই চোটের কারণে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশের গতিতারকা নাহিদ রানা। অস্ট্রেলিয়ার পেস সহায়ক কন্ডিশনে তার বোলিং দেখার অপেক্ষায় ছিলেন অনেক ক্রিকেটপ্রেমী। সেই তালিকায় ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ও জনপ্রিয় ক্রিকেট বিশ্লেষক ইয়ান বিশপও। রানার অনুপস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে ইয়ান বিশপ লিখেছেন, ‘নাহিদ রানার জন্য খারাপ লাগছে। আরও অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর মতো আমিও অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশে তাকে বল করতে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর মাত্র দুই বছরেই নিজের গতি ও আগ্রাসী বোলিংয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন নাহিদ। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করার পাশাপাশি ধারাবাহিক বাউন্সারে ব্যাটারদের চাপে ফেলার দক্ষতায় ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছেন ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস ও ইয়ান বিশপের মতো কিংবদন্তিদের।
এখন পর্যন্ত ১২টি টেস্টে ৩৮ উইকেট শিকার করেছেন নাহিদ। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন দুইবার। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের মাটিতে এবং চলতি বছরে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার দুই ফাইফারের ম্যাচেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতেও তিনি নিজেকে কার্যকর প্রমাণ করেছেন। প্রথম পাঁচ ম্যাচে একটি পাঁচ উইকেট শিকারের পর পরের ১০ ওয়ানডেতে আরও তিনবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।
নাহিদকে না পাওয়ার আক্ষেপ লুকাননি বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনও। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নাহিদ রানার আক্ষেপটা তো মুছে ফেলা যাবে না। নাহিদ রানা স্পেশাল বোলার। আমার মনে হয় যেকোনো টেস্ট দলে যদি দেখেন, সে রোমাঞ্চকর বোলার। সে না থাকার আক্ষেপটা তো থাকবেই।’
২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নাহিদ ১২টি টেস্ট, ১৫টি ওয়ানডে ও পাঁচটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। তিন সংস্করণ মিলিয়ে তার উইকেট সংখ্যা ৭৮। চলতি বছরের ৭ জুলাই হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও গড়েন তিনি।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকেতে। তবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সিরিজে নাহিদ রানাকে না পাওয়ায় বাংলাদেশ যেমন বড় এক অস্ত্র হারিয়েছে, তেমনি বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরাও হারালেন অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে বাংলাদেশের অন্যতম দ্রুতগতির এই পেসারকে দেখার সুযোগ।










Discussion about this post