জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) পঞ্চম রাউন্ডের শেষ দিনে জমে উঠেছিল রোমাঞ্চ। একদিকে শেষ উইকেটের লড়াইয়ে সিলেটকে ১ উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম, অন্যদিকে ময়মনসিংহকে ৮ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে খুলনা। রাজশাহীকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চলতি আসরে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর। তবে ঢাকা ও বরিশালের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ড্রয়ে। সেখানে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন দুই দলের দুই ব্যাটসম্যান।
সিলেটের বিপক্ষে জয়ের জন্য আজ শেষ দিনে চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল ১০১ রান। হাতে ছিল ৯ উইকেট। জয়ের পথটা সহজ মনে হলেও নাসুম আহমেদ ও শাহানুর রহমানের স্পিন ঘূর্ণিতে হঠাৎই ম্যাচে ফিরে আসে সিলেট।
৩ উইকেটে ১৮৭ রান থেকে মাত্র ২৩ রান যোগ করতেই ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। একের পর এক ব্যাটসম্যানের বিদায়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সিলেটের হাতে। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন ওপেনার সাদিকুর রহমান।
দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিজের ইনিংসকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ঠিক ১০০ রান করে নাসুম আহমেদের বলে আউট হন তিনি। তখন জয়ের জন্য চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল আরও ১৭ রান।
শেষ পর্যন্ত আশরাফুল হাসান ও সঞ্জিত মজুমদার শেষ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। শাহানুর রহমানকে উড়িয়ে মেরে চার হাঁকিয়ে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন আশরাফুল। তার অপরাজিত ১৫ রানের ইনিংসটি হয়ে ওঠে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট শিকার করেও দলকে জেতাতে পারেননি নাসুম আহমেদ। চট্টগ্রামের হয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন সাদিকুর রহমান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরি এবং চলতি লিগে তৃতীয় শতক।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচে দুটি জয় ও একটি ড্রয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে চট্টগ্রাম।
নিজেদের মাঠ খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে খুলনা। শেষ দিনে জয়ের জন্য তাদের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৪০ রান। সেই লক্ষ্য পেরোতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি স্বাগতিকদের।
ফলোঅনে পড়া ময়মনসিংহ আগের দিনের ৯ উইকেটে ৩১৫ রান নিয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করে। তবে মাত্র ৪ রান যোগ করতেই গুটিয়ে যায় তাদের দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে খুলনার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৪০ রান।
রান তাড়ায় এনামুল হক বিজয়ের ব্যাটে ভর করে সহজ জয় পায় খুলনা। ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটসম্যান। তাঁর সঙ্গে আজিজুলের ৩৭ রানের ইনিংসও জয়ে অবদান রাখে।
পাঁচ ম্যাচে তিন জয় ও দুই ড্রয়ে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন খুলনা। অন্যদিকে চলতি লিগে প্রথম হারের মুখ দেখেছে ময়মনসিংহ। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান সপ্তম।
পঞ্চম রাউন্ডে এসে চলতি জাতীয় লিগে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রাজশাহীকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে তারা।
শেষ দিনে ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা রাজশাহী ১৮৪ রানেই অলআউট হয়ে যায়। শেষ সাত উইকেট হারাতে তারা যোগ করতে পেরেছে মাত্র ৭৪ রান। এতে রংপুরের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬০ রান।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল রংপুর। ওপেনার মিম মোসাদ্দেক ৮৯ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন। ইকবাল হোসেন করেন ২৯ রান। শেষ দিকে মাত্র ১৯ বলে অপরাজিত ৩০ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন রিশাদ হোসেন।
পাঁচ ম্যাচে একটি জয় ও তিন ড্রয়ে ২০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে রয়েছে রংপুর। সমান ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ঠিক পরেই রাজশাহী।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ঢাকা ও বরিশালের মধ্যকার ম্যাচটি শেষ হয়েছে ড্রয়ে। বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে প্রথম দুই দিন খেলা না হওয়ায় ম্যাচে ফল বের করার সুযোগ ছিল সীমিত। তবে শেষ দিনে ব্যক্তিগত অর্জনের খুব কাছে গিয়েও হতাশ হতে হয়েছে দুই দলের দুই ব্যাটসম্যানকে।
বরিশালের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ৯৪ রান করে আউট হয়েছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ছয় রান দূরে থাকতে তাইবুর পারভেজের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৮ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। ১৪৩ বলের ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে ঢাকার আশিকুর রহমান শিবলির আক্ষেপ আরও বেশি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে থেমেছে তার ইনিংস। ১৬২ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৯৯ রান করেন তিনি। ইফতেখার হোসেনের দুর্দান্ত ক্যাচে শেষ হয় তাঁর লড়াই।
আবদুল্লাহর ৯৪ রানের পর ঢাকার হয়ে শিবলির ৯৯ রানের ইনিংস ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স হয়ে থাকলেও ফলের দেখা পায়নি কোনো দল। ঢাকা ৫ উইকেটে ২৫১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে ড্র মেনে নেয় দুই দল।
পাঁচ ম্যাচে একটি জয় ও চার ড্রয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। অন্যদিকে দুটি ড্রয়ে ৮ পয়েন্ট পাওয়া বরিশাল রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে।



