ঘরের মাঠে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসার নাম তাইজুল ইসলাম। অথচ সেই অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনারই এখন নিজের ছন্দ খুঁজে ফিরছেন। শেষ চার টেস্টে উইকেট পেয়েছেন মাত্র ৫টি। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। তার এমন ফর্মহীনতা ভাবিয়ে তুলেছে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাইজুলকে একাদশের বাইরে রেখে শুধু ডানহাতি অফ স্পিনারদের নিয়ে দল সাজানোর ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।
বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এর আগের দিন বুধবার সংবাদ সম্মেলনে তাইজুলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান সিমন্স। দলের অন্যতম প্রধান স্পিনারের উইকেট খরা যে চিন্তার কারণ, সেটি অকপটেই স্বীকার করেন তিনি।
সিমন্স বলেন, ‘এটা ভীষণ উদ্বেগের। কারণ সে আমাদের দলের প্রধান স্পিনারদের একজন। তাই এটা ভাবনার বিষয় তো বটেই। আমি নিশ্চিত, এটা তার নিজের জন্যও ততটাই উদ্বেগের। তার সঙ্গে যখন কথা বলবেন, বুঝবেন সে নিজেও এটা নিয়ে ভাবছে। কারণ সে আমাদের এই দলের একটা বড় অস্ত্র।’
মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের কাছে কার্যত অসহায় ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং। সফরকারীদের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান ও অফ স্পিনার রোস্টন চেস মিলে দুই ইনিংসে তুলে নেন বাংলাদেশের ১৪ উইকেট। বিপরীতে দুই ইনিংস মিলিয়ে তাইজুলের শিকার ছিল মাত্র ২ উইকেট। দলের অন্য স্পিনাররাও নিজেদের সামর্থ্যের ছাপ রাখতে পারেননি।
ঘরের মাঠে স্পিনে প্রতিপক্ষের কাছে এমনভাবে পিছিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য খুব একটা পরিচিত নয়। বিষয়টি স্বীকার করে সিমন্স বলেন, ‘খুব বেশি দলকে আমাদের স্পিনারদের ছাপিয়ে বোলিং করতে দেখিনি। আমরা ভালো বল করতে পারিনি, এটা সত্যি এবং আমরা তা জানি। দলগত আলোচনাতেও বিষয়টি এসেছে যে আমরা ভালো বোলিং করিনি। তবে এমনটা সবসময় ঘটে না।’
তবে একটি টেস্টের ব্যর্থতায় স্পিনারদের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছেন না বাংলাদেশ কোচ। বরং দলের শক্তির জায়গা হিসেবে স্পিনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি, ‘স্পিনাররা এখনও আমাদের শক্তির বড় জায়গা। অনেক পেসার এখন উঠে আসছে ঠিক, তবে স্পিনাররাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখানে (সিলেটে) শেষ টেস্টেও আমাদের স্পিনাররাই শেষ দিনে ম্যাচ জিতিয়েছিল। কাজেই স্পিনারদের ওপর আমাদের এখনও পূর্ণ আস্থা আছে।’
এদিকে তাইজুলের ফর্মের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে তার কাঁধের চোটের বিষয়টিও। সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের পর থেকে কাঁধের টেন্ডনে সমস্যা হচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে আপাতত এই চোট তার বোলিংয়ে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন না সিমন্স। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চোটের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে মেডিকেল স্টাফদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তবে আমি জানি যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওর কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে ও ভালোমতো থ্রো করছে, পুরো গতিতেই বল করছে। গতকালও নেটে পুরোপুরি বোলিং করেছে। দেখে মনে হচ্ছে না এটা ওর বোলিংয়ে প্রভাব ফেলছে।’
তাইজুলের বিকল্প হিসেবে স্কোয়াডে আর কোনো বিশেষজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার নেই। ফলে তাকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত এলে একাদশের বোলিং সমন্বয়ে পরিবর্তন আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের মতো দুই অফ স্পিনারকে একসঙ্গে খেলানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সিমন্স বলেন, ‘এটা এমন একটা বিষয়, যা আপনাকে অবশ্যই ভাবাবে। একটু পরেই আমরা যখন (সিলেকশন মিটিংয়ে) বসব, তখন নিশ্চিতভাবেই এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে হবে।’



