অনুশীলনে প্রস্তুতির কমতি নেই, নেই পরিশ্রমের ঘাটতিও। অথচ মাঠে নামলেই যেন বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের চেহারা। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারছে না নাজমুল হোসেন শান্তর দল। পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলে যে সম্ভাবনার জানান দিয়েছিল বাংলাদেশ, সাম্প্রতিক দুই টেস্টে সেই আশার জায়গায় জমেছে হতাশা। দলের এমন পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এরপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ব্যাটিংয়ের দৈন্যদশা আরও স্পষ্ট হয়েছে। নিজেদের পরিচিত পরিবেশ, স্পিন সহায়ক উইকেট-কোনো কিছুই কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকেরা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার ক্ষীণ সম্ভাবনাটুকু বাঁচিয়ে রাখতে এখন সিলেট টেস্টে জয়ের বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সিমন্স। তার পর্যবেক্ষণে, ডারউইন টেস্টের পর থেকেই ব্যাট হাতে প্রত্যাশার ধারেকাছেও যেতে পারছেন না ক্রিকেটাররা। খেলোয়াড়দের মধ্যে ভালো করার তাগিদ থাকলেও সেটি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে কাজে আসছে না।
সিমন্স বলেন, ‘ডারউইন টেস্টের পর থেকে আমরা ব্যাট হাতে ভালো করতে পারছি না। খেলোয়াড়দের মধ্যে নিজেদের প্রমাণ করার তাড়না রয়েছে। কিন্তু সেই ইচ্ছার প্রতিফলন ম্যাচে দেখা যাচ্ছে না।’
ব্যাটিং ব্যর্থতার দায় প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে দিতে চাননি বাংলাদেশের কোচ। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের পারফরম্যান্সকেও যথাযথ কৃতিত্ব দিয়েছেন, ‘আমরা স্বীকার করছি, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। যতটা ভালো করার কথা ছিল, ততটা করতে পারিনি। তবে এটাও সত্যি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা দারুণ বোলিং করেছে।’
তবে অনুশীলনে ক্রিকেটারদের নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন না সিমন্স। বরং তার হতাশার জায়গাটি আরও গভীরে। কঠোর প্রস্তুতির পরও কেন ম্যাচের পরিস্থিতিতে সেই দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটছে না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পাকিস্তান সিরিজের আগে কিংবা ডারউইন টেস্টের প্রস্তুতিতেও ক্রিকেটারদের পরিশ্রমের ঘাটতি ছিল না বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সিমন্স বলেন, ‘ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে। ডারউইন টেস্টের আগে কিংবা পাকিস্তান সিরিজের আগেও তারা একইভাবে পরিশ্রম করেছে। কিন্তু ম্যাচে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। আমরাও মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই।’
মিরপুরের ব্যর্থতা ভুলে নতুন করে শুরু করার জন্য সিলেটকে উপযুক্ত মঞ্চ মনে করছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ। তাঁর চোখে, সিলেটের উইকেট পাকিস্তান সিরিজের পিচগুলোর মতোই ভালো ক্রিকেটের জন্য সহায়ক। অর্থাৎ ব্যাটারদের নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ রয়েছে। এখন সেই সুযোগ কাজে লাগানোর দায়িত্ব ক্রিকেটারদেরই।



