ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরিনা যেন বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য হয়ে উঠেছিল এক দুঃস্বপ্নের মঞ্চ। ডারউইনে যে দল অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল, সেই দলই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ মাত্র ১৫৯ রান। প্রথম ইনিংসে ৬৪, দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫-দুইবারই শতরানের আগেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের সব উইকেট।
ফলাফলও এসেছে দ্রুত। টেস্ট ম্যাচটি শেষ হয়েছে দেড় দিনের মধ্যেই। ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজ ১-১ ব্যবধানে শেষ করেছে বাংলাদেশ। তবে পরাজয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরিসংখ্যান। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবার একই ম্যাচের দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটেও এমন ঘটনা নিয়মিত দেখা যায় না। দীর্ঘ ২১ বছর পর কোনো দল একই টেস্টে দুই ইনিংসেই তিন অঙ্কে পৌঁছানোর আগেই সব উইকেট হারাল। অর্থাৎ ম্যাকাইয়ের ম্যাচটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও একটি বিরল অধ্যায় হয়ে থাকল।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বিপর্যয় শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে। মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পরও দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার করা ২১০ রানের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের লড়াই। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৫৯ রানও অস্ট্রেলিয়ার এক ইনিংসের সংগ্রহকে ছুঁতে পারেনি।
এই ব্যাটিং ব্যর্থতা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে বিশ্ব ক্রিকেটে দুই ইনিংসেই শতরানের আগে অলআউট হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ম্যাকাইয়ের ম্যাচটি এমন ঘটনার ১৮তম নজির, যেখানে বাংলাদেশ অষ্টম দল হিসেবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকায় যুক্ত হলো।
অথচ সিরিজের শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্পের। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ দেখিয়েছিল, তাদের সামর্থ্য কতটা উঁচুতে উঠতে পারে। সেই ম্যাচের আত্মবিশ্বাস নিয়েই ম্যাকাইয়ে এসেছিল দলটি। কিন্তু গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরিনায় অস্ট্রেলিয়ার আগুনে পেস আক্রমণের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং যেন মুহূর্তেই এলোমেলো হয়ে যায়।
ম্যাকাই টেস্টের আরেকটি দিকও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। দেড় দিনের এই ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম টেস্ট এবং বিশ্ব টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ। অর্থাৎ বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস শুধু ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেনি, ম্যাচটিকে ঠেলে দিয়েছে রেকর্ড বইয়ের পাতাতেও।



