অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জেতা হয়নি, দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হারও সঙ্গী হয়েছে। তবু দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করার পুরস্কারটা বাংলাদেশের জন্য এসেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে। টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো র্যাঙ্কিংয়ের সেরা ছয়ে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।
২৩ আগস্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ হালনাগাদে বাংলাদেশের রেটিং বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮। আগের অবস্থানে ৭৩ রেটিং নিয়ে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশ এক ধাক্কায় তিন ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে। পেছনে পড়ে গেছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নতুন তালিকায় বাংলাদেশের ঠিক নিচে সপ্তম স্থানে আছে শ্রীলঙ্কা, তাদের রেটিং ৭৬। পাকিস্তান ৭৫ রেটিং নিয়ে অষ্টম এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৪ রেটিং নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে যে তিন দল বাংলাদেশের ওপরে ছিল, সিরিজ শেষে তাদের সবাইকে পেছনে ফেলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
র্যাঙ্কিংয়ের এই উত্থানের মূল ভিত্তি অবশ্যই ডারউইনের সেই ঐতিহাসিক জয়। সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। সেই জয়ের প্রভাব পড়েছে র্যাঙ্কিংয়েও।
ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্ট অবশ্য বাংলাদেশের জন্য ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত অভিজ্ঞতা। মাত্র পাঁচ সেশনের মধ্যেই ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে যায় সফরকারীরা। দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৬৪ ও ৯৫ রানে অলআউট হয়ে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তবে সিরিজে একটি জয় থাকায় সামগ্রিকভাবে রেটিংয়ে উন্নতি হয়েছে তাদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর ৭৩ থেকে এখন বাংলাদেশের রেটিং ৭৮।
টেস্টে ষষ্ঠ স্থান বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি র্যাঙ্কিং পরিবর্তন নয়, বরং নতুন একটি মাইলফলক। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল সপ্তম। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারানোর পর সেই অবস্থানে উঠেছিল তারা। এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ ড্র করেই নিজেদের আগের সেরা অবস্থান ছাড়িয়ে গেল দলটি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্য দুই সংস্করণেও বাংলাদেশের র্যাঙ্কিংয়ের সেরা অবস্থানের নজির রয়েছে। ওয়ানডেতে ২০১৭ সালে ষষ্ঠ স্থানে উঠেছিল বাংলাদেশ। আর টি-টোয়েন্টিতে ২০১২ সালে একবার চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছিল তারা। এবার টেস্টেও সেরা ছয়ে উঠে তিন সংস্করণেই নিজেদের সক্ষমতার আলাদা দৃষ্টান্ত তৈরি করল বাংলাদেশ।



