অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেছিলেন, দেশে ফিরতে চান ‘রেসপেক্ট’ নিয়ে। শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছে। সিরিজ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ ড্র করে সম্মান নিয়েই দেশে ফিরছে বাংলাদেশ। আর খেলোয়াড়ি জীবন ও অফিসিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এই সফরকেই নিজের জীবনের সেরা সফর হিসেবে দেখছেন বাশার।
ডারউইনে জয়ের পর ম্যাকাইয়ে হারের কারণে সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। মাত্র দেড় দিনে শেষ হওয়া সেই পরাজয় অবশ্যই হতাশার। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের কন্ডিশনে সিরিজ ড্র করাকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন প্রধান নির্বাচক।
বাশার বলেন, প্রত্যাশা বেশি ছিল এবং সিরিজ জয়ের আশা করেছিলেন তারা। তবে একই সঙ্গে জানতেন, অস্ট্রেলিয়া শেষ ম্যাচে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে।
ম্যাকাইয়ের ম্যাচে টস ও কন্ডিশনের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশ আগে বোলিং করলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদেরও ওই উইকেটে ব্যাট করতে সমস্যা হয়েছে উল্লেখ করে বাশার বলেন, স্বাগতিকরা বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন ধরনের, দ্রুতগতির উইকেট তৈরি করেছিল। এমন কন্ডিশনে ব্যাট করার অভ্যাস বাংলাদেশের কম।
তার ভাষায়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এসে সিরিজ ড্র করে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় অর্জন।
তবে শুধু সিরিজের ফল নয়, এই সফরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকে দেখছেন বাশার। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশ দল। রেস্টুরেন্ট কিংবা বাইরে গেলেও মানুষ এসে অভিনন্দন জানিয়েছে বলে জানান তিনি।
বাশারের মতে, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররাও এখন বাংলাদেশকে অন্য চোখে দেখছেন। তারা বুঝতে পারছেন, বাংলাদেশ যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সক্ষমতা রাখে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এটিকেই বড় পাওয়া মনে করছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটেও বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেছেন প্রধান নির্বাচক। নিয়মিত জয় পাওয়া, টেস্টে উন্নতি এবং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো অবস্থান-সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তবে এখনই বাংলাদেশকে ‘অনেক বড় দল’ হিসেবে অভিহিত করতে চান না। তার মতে, অস্ট্রেলিয়া সফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেটমেন্ট।
সামনে বাংলাদেশের জন্য আরও পাঁচটি টেস্ট রয়েছে, যেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন বাশার।
সবশেষে নিজের দীর্ঘ ক্রিকেট-অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে এই সফরের মাহাত্ম্য তুলে ধরেন তিনি। ২০০০ সাল থেকে খেলোয়াড় ও অফিসিয়াল হিসেবে বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন বাশার। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার এবারের সফরকে সবার ওপরে রাখছেন তিনি। কারণ, এবার যে সম্মান পেয়েছেন, তা আগে কখনো পাননি বলেই মনে করেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক।



