ডারউইনের মারারা ওভালে বাংলাদেশ এইচপির শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ১৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওভারের মধ্যেই দুই উইকেট হারায় দল। এরপর জিসান আলম ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরও দ্রুত ফিরে গেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছিল হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমির হাতে। ঠিক সেই জায়গাতেই গল্পটা নিজের হাতে তুলে নেন সাব্বির রহমান।
চার নম্বরে নেমে সাব্বির যেন বুঝিয়েই দিলেন, এই ম্যাচে হার মানার কোনো ইচ্ছা নেই। হোবার্টের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হন তিনি। একদিকে উইকেট পড়ছে, অন্যদিকে সাব্বিরের ব্যাটে দ্রুতগতিতে আসছে রান। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের আবহ।
৩৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন সাব্বির। শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৫৯ রান করে থামেন তিনি। ছয়টি চার ও দুটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি হয়তো শতকের মতো বড় নয়, কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় এর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। তার ব্যাটেই মূলত কঠিন লক্ষ্যটা বাংলাদেশের নাগালের মধ্যে চলে আসে।
সাব্বির ফেরার পরও জয় থেকে ছিটকে যায়নি বাংলাদেশ। শামীম হোসেনের ১৬ ও এসএম মেহরবের ১৩ রান দলকে এগিয়ে নেয়। শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১৩ বলে অপরাজিত ১৯ এবং আবু হায়দার রনি ৫ বলে অপরাজিত ৮ রান করে বাকি কাজটা শেষ করেন। ১৯.৪ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে হোবার্ট। আবু হায়দার রনি ও মোহাম্মদ রুবেলের দুর্দান্ত শুরুর বোলিংয়ে ১৩ রানের মধ্যেই দুই উইকেট হারায় তারা। পরে ব্র্যাডলি হোপ ও টিগ উইলি মিলে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ১৭ বলে ২২ রান করে হোপ ফিরলেও উইলি শেষ পর্যন্ত অটুট থাকেন।
৫৩ বলে চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন উইলি। তার ব্যাটেই ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৩ রানের সংগ্রহ পায় হোবার্ট। বাংলাদেশের হয়ে রুবেল নেন তিন উইকেট, রিপন মণ্ডল দুটি এবং রনি ও সাকলাইন একটি করে উইকেট নেন।
শেষ পর্যন্ত হোবার্টের ১৫৩ রানও যথেষ্ট হলো না। কারণ বাংলাদেশের হয়ে সেদিন একজনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিলেন-সাব্বির রহমান।
টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশ এইচপির টানা দ্বিতীয় জয়। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে নেট রানরেটে টেবিলের দুইয়ে আছে তারা। তবে দলের জয় ছাড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন সাব্বিরের ৫৯। জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ার জন্য এর চেয়ে জোরালো শব্দ হয়তো আপাতত আর কিছু হতে পারে না।



