টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর পরই বড় ধরনের অস্বস্তিতে পড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি। টুর্নামেন্ট চললেও প্রথম তিন দিন ধরে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘিরে ছিল সবচেয়ে আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে। শেষ পর্যন্ত সেই সংকট কেটে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে আইসিসির অন্দরমহলে। একই সঙ্গে সমাধানকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সহসভাপতি রাজীব শুক্লা।
বিশ্বকাপ শুরুর দিন ৭ ফেব্রুয়ারি রাতেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে লাহোরে যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সদর দপ্তরে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠকে বসেন আইসিসি ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় আইসিসি, বিসিবি ও পিসিবির মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা হয়, যার ফলেই গত রাতে চূড়ান্ত সমাধান আসে।
এই সমাধান নিয়ে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজীব শুক্লা বলেন, ‘লাহোরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইসিসি একটি চমৎকার সমাধান বের করেছে। আমি তাতে ভীষণ খুশি। এটা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান। ক্রিকেটই এখানে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।’
১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার কথা থাকলেও গত কয়েক দিন ধরে তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল গভীর অনিশ্চয়তা। ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর পর ৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ঘোষণা দেন, বাংলাদেশের সমর্থনে ভারতীয় দলের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে পাকিস্তান। এতে করে ম্যাচটি বাতিল হলে আইসিসির ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কার কথা উঠে আসে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে। সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ চুক্তি বাতিলের কথাও ভাবতে শুরু করে সম্প্রচারকারী জিও স্টার।
শেষ পর্যন্ত গতকাল মধ্যরাতে পাকিস্তান সরকারের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডল থেকে জানানো হয়, তারা বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছে। এতে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে গড়ানোর পথ পরিষ্কার হয়।
এই সিদ্ধান্তে নিজের সন্তুষ্টির কথা আবারও জানান রাজীব শুক্লা। তিনি বলেন, ‘এমন উদ্যোগে পূর্ণ কৃতিত্বই আইসিসির প্রাপ্য। এটা অনেক বড় একটা অর্জন। পাকিস্তান ইস্যুতে সমাধান করতে পারায় আইসিসিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কলম্বোতে পাকিস্তান অবশেষে খেলতে রাজি হয়েছে।’
এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে খেলতে অনুরোধ জানায় বিসিবি। গতকাল বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘এই সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান যে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তাতে আমরা সত্যিই আবেগাপ্লুত। আমাদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দীর্ঘদিন অটুট থাকুক। গতকাল পাকিস্তানে আমার সংক্ষিপ্ত সফর এবং আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির প্রেক্ষিতে আমি পাকিস্তানকে অনুরোধ করছি-সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বের স্বার্থে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি খেলতে।’
সমঝোতার ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকেও কোনো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে না। আইসিসি বাংলাদেশের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করবে এবং বিশ্বকাপের লাভের অংশও দেবে। পাশাপাশি ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাচ্ছে বিসিবি। ক্রিকেটের রাজনীতিতে এই ঘটনায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান-দু’দেশই নিজেদের অবস্থান থেকে এক ধরনের নৈতিক জয় দেখছে।










Discussion about this post