বিপিএলের সর্বশেষ আসরে ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এরই মধ্যে তিনজনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করে অভিযোগ গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর আগে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে খেলোয়াড়, দলীয় কর্মকর্তা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকসহ আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে বিপিএলের ১১তম আসর ঘিরে অভিযুক্ত নয় ক্রিকেটারের বিষয়ে এত দিন স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের সুপারিশে ১২তম বিপিএলের নিলামে ওই নয় ক্রিকেটারকে রাখা হয়নি। অথচ বিপিএলে না খেললেও তাঁরা ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন, এমনকি তাদের একজন জাতীয় দলেও ডাক পেয়েছেন। মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের মুখে অ্যালেক্স মার্শাল জানান, ১২তম বিপিএলের জন্য তাদের না রাখার সিদ্ধান্তটি ছিল নির্দিষ্ট ওই আসরকেন্দ্রিক।
মার্শাল বলেন, ‘১২তম বিপিএলের ড্রাফটের কয়েক দিন আগে আমাকে ৯০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে অনেক মানুষের বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য ছিল। বিদেশি খেলোয়াড়, স্থানীয় খেলোয়াড়, খেলোয়াড় নন-ছিলেন এমন ব্যক্তিরাও। আমি তখনকার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে পরামর্শ দিয়েছিলাম, আমাদের হাতে যে তথ্য এসেছে, আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখার সময় এই বিপিএলে তাদের আমন্ত্রণ না জানানোই হয়তো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’
তাদের ‘হুমকি’ মনে হয়েছিল বলেও জানান মার্শাল। তবে শাস্তির সিদ্ধান্ত তার হাতে ছিল না। বিসিবির আইনজীবি ও ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল কাউন্সিলর ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমানও বলেন, ‘তারা দোষীও নয়, আবার নির্দোষও নয়।’
ফিক্সিং তদন্তের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে মার্শাল বলেন, ‘তদন্ত কাজ কীভাবে করে তা আমি জানাচ্ছি। শুরুতে আমরা একটি ইস্যু গ্রহণ করি। ধরুন, কোনো ক্রিকেটার বললো যে, কেউ আমাকে বলেছে খারাপ খেলতে। এর বিনিময়ে তারা আমাকে টাকা দেবে। এটাই ফিক্স করার প্রথম ধাপ। ম্যানেজার, কোচ কিংবা সাংবাদিকদের কাছেও তথ্য থাকলে, তারা ইউনিটকে এটা জানায়। আইসিসিও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশে কিছু দেখতে পেলে সেগুলোর তথ্য বিসিবির কাছে পাঠিয়ে দেয়। বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ব্যাপারে দায়িত্বশীল।’
নিজের স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার একটা ইউনিট আছে। আমার সঙ্গে বাংলাদেশি লোকজন আছে। সভাপতির কাছে আমি রিপোর্ট করি। আমার কাজ একেবারেই স্বাধীন এবং গোপনীয়। কেউ এসে আমাকে কিছু বলতে পারে না যে, কীভাবে তদন্ত করতে হবে, কাকে নিয়ে তদন্ত করতে হবে। তবে দিনশেষে তদন্ত শেষে জেনারেল কাউন্সিল সভাপতির সঙ্গে আলাপ করে জানায় কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে কিনা।’
এদিকে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। মার্শাল জানিয়েছেন, সামনে আরও অভিযোগ আসতে পারে। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমরা প্রকাশ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা জানিয়েছি এবং একজনকে এক্সক্লুডেড পারসন হিসেবে ঘোষণা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আরও কিছু মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আপনারা আরও অভিযোগ দেখতে পারেন।’
সর্বশেষ তিন অভিযুক্তের জবাব দেওয়ার সময়ও প্রায় শেষ। মার্শালের ভাষায়, ‘সবশেষ যে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগ করা হয়েছে। তাই তাদের জবাব দেওয়ার জন্য আর দুই বা তিন দিন সময় বাকি আছে। তারা চাইলে দুর্নীতিবিরোধী ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে শুনানির আবেদন করতে পারেন এবং অভিযোগ অস্বীকার করতে পারেন।’



