নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট-সম্পর্ক এত দিন সীমাবদ্ধ ছিল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে। দুই দল এখন পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে মাত্র দুবার, দুটিই বিশ্বকাপে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অবশ্য কখনো দেখা হয়নি তাদের। সেই অপেক্ষা এবার শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আগামী বছর কিংবা ২০২৭ সালের মধ্যে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের পথ খুঁজছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বেশ কিছুদিন আগেই বিসিবির কাছে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার আগ্রহ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে বিসিবি। তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সূচি যে ভীষণ ব্যস্ত, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম বা এফটিপির ঠাসা সূচির মধ্যেই নেপালের জন্য উপযুক্ত সময় বের করার চেষ্টা চলছে।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘নেপাল ক্রিকেট বোর্ড আমাদের কাছে বেশ কিছুদিন আগেই একটা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। যেখানে ওরা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার একটা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সেই বিষয়কে খুবই ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে কথা হচ্ছে।’
সূচি নিয়ে বাস্তবতার কথাও স্পষ্ট করেছেন নাফীস। তিনি বলেন, ‘যদি সবকিছু ঠিকঠাক মতো মেলে, কারণ আমরা জানি যে আমাদের এফটিপিটা খুবই প্যাকড। এরপরও আমরা এই সাইকেলের (চক্র) মধ্যে একটা সুবিধাজনক সময় বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছি। সবকিছু ঠিকঠাক মতো হয়, আশা করি এই সিরিজটা আমাদের হতে পারে।’
২০২৭ সাল পর্যন্ত চলা বর্তমান সূচি-চক্রের মধ্যেই সিরিজটি আয়োজন করতে চায় বিসিবি। তবে এখনই নির্দিষ্ট সময় বা তারিখ বলার অবস্থায় নেই বোর্ড, ‘সাইকেলটা তো ২০২৭ সাল পর্যন্ত। এই সাইকেলের মধ্যেই আমাদের ইচ্ছা আছে এবং নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সেই অনুরোধও আছে। তো এটা আমরা ইতিবাচকভাবেই দেখছি। যখন এটা বলার মতো পর্যায়ে যাবে বা আমরা একটা পজিশনে আসতে পারব যেখানে আমরা বলতে পারব যে হচ্ছে বা হচ্ছে না, তখন আমরা জানিয়ে দিতে পারব। এতটুকু নিশ্চিত করতে পারি যে নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন থেকে যোগাযোগ হয়েছে।’
নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্যোগের পরই বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজ আয়োজনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উপলক্ষ তৈরি করতেই বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজ আয়োজনের আগ্রহ দেখানো হয়েছে বলে নেপালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। ওই সাক্ষাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের আগ্রহের কথা জানান তিনি। তবে সিরিজের সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যার কোনো সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, সেটি নিশ্চিত করতে পারেননি নাফীস।
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে আসলে এই ব্যাপারটা জানি না। যেহেতু ক্রীড়ামন্ত্রী এই ব্যাপারে কথা বলেছেন বা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাথে নেপাল সরকারের একটা যোগাযোগ হয়েছে, এটা ওপরের মহলে হয়ে থাকতে পারে। আমাদের সাথে যে কমিউনিকেশনটা হয়েছে এটার মধ্যে আসলে এই ফ্লাড ইস্যুটা আসেনি।’
নেপালের প্রস্তাব নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও বাংলাদেশের সামনে এখন ব্যস্ত ক্রিকেটীয় সূচি। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে জাতীয় দলের সামনে রয়েছে এশিয়ান গেমস।
আগামীকাল থেকেই মিরপুরে শুরু হচ্ছে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি। মাসের শেষ দিকে এশিয়ান গেমস শেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের। সেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট এবং জিম্বাবুয়েকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে তারা।



