টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকায় শীর্ষস্থান নিয়ে জমে উঠেছে দারুণ এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সেই লড়াইয়ে মুখোমুখি বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির। দুজনের মধ্যে ব্যবধান এখন মাত্র এক উইকেট।
২০২৬ সালের পিএসএলে ভিন্ন দুটি দলে খেললেও দুজনই রয়েছেন ছন্দে। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলছেন মুস্তাফিজুর, আর নবাগত রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজের হয়ে মাঠে নামছেন আমির। বর্তমানে টি-টোয়েন্টিতে ৪১৫ উইকেট নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছেন আমির, আর ঠিক পেছনেই ৪১৪ উইকেট নিয়ে অবস্থান মুস্তাফিজুরের। ফলে আজকের ম্যাচেই এই অবস্থান বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামবেন মুস্তাফিজুর। এই ম্যাচে তিনি যদি দুটি উইকেট নিতে পারেন, তাহলে আমিরকে পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর আসনে বসবেন।
তবে শুধু উইকেটের সংখ্যাতেই নয়, বোলিং দক্ষতাতেও আলাদা করে নজর কাড়ছেন এই বাংলাদেশি পেসার। এবারের আসরে দুজনই এখন পর্যন্ত দুটি করে উইকেট পেলেও ইকোনমি রেটে বড় পার্থক্য রয়েছে। আমির যেখানে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন, সেখানে মুস্তাফিজুর অত্যন্ত মিতব্যয়ী বোলিং করে নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন। ৮ ওভারে মাত্র ৩৯ রান খরচ করে তিনি দেখিয়েছেন কতটা নিয়ন্ত্রিত হতে পারেন।
মুস্তাফিজুরের বোলিংয়ের আসল শক্তি তার বৈচিত্র্য। স্লোয়ার ও কাটারের মিশেলে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করে দিচ্ছেন তিনি। এখন পর্যন্ত তার করা ৪৮ বলের মধ্যে ১৮টিই ডট বল, যা তার নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনার প্রমাণ। ইনিংসের শুরুর দিকেই উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ডেথ ওভারেও তিনি প্রতিপক্ষের জন্য হয়ে উঠছেন বড় হুমকি। শেষদিকে দেওয়া তার ডট বলগুলো ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ তার দল লাহোর কালান্দার্সও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুস্তাফিজুরকে ‘কৌশলের ওস্তাদ’, ‘বরফের মতো ঠাণ্ডা’, ‘ডেথ ওভারের বিশেষজ্ঞ’ এবং ‘কাটারের জাদুকর’-এমন নানা উপাধিতে ভূষিত করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এতে স্পষ্ট, দলে তার প্রভাব কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে একই দলে খেলছেন বাংলাদেশের আরেক ক্রিকেটার পারভেজ হোসেন ইমন, যদিও এখন পর্যন্ত ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখতে পারেননি। দুই ম্যাচে এক জয় ও এক হারে লাহোর কালান্দার্স পয়েন্ট টেবিলের মাঝামাঝিতে।









Discussion about this post