বাংলাদেশ কেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি, গত জানুয়ারি থেকে দেশের ক্রিকেটে এটি একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ইস্যু। এ বিষয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়া সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ভারতের প্রতি বার্তা দিতেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি।
বিশ্বকাপে না খেলে বাংলাদেশের কী অর্জন হয়েছে-এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা ইস্যু যখন এত বড় দেশের কাছে এত তুচ্ছ ব্যাপার হয়, আমাদের অপমান করা যখন এত সহজ ব্যাপার হয়-এই অপমান করা, এই তুচ্ছ করা, এই আমাদের স্বার্থহানি করা, আমাদের নিয়ে রসিকতা করা-এটার জবাব যে আমরা দিতে পারি সেটার একটা ভালো উদাহরণ স্থাপন করলাম। তাদের (ভারত) অবশ্যই মনে করিয়ে দেওয়া দরকার ছিল যে আমাদেরও মেরুদণ্ড বলে জিনিস আছে। এটা আপনার কাছে অর্জন না?’
এই ইস্যুর পটভূমিতে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। সংস্থাটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে, যার সভাপতি হয়েছেন তামিম ইকবাল। এর ফলে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিসিবি অধ্যায় কার্যত শেষ হয়েছে। তবে তাঁর বিদায়ের পরও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়া নিয়ে বিতর্ক থামেনি।
ঘটনার সূত্রপাত ২২ জানুয়ারির একটি বৈঠক থেকে, যেখানে আসিফ নজরুল লিটন দাস ও নুরুল হাসান সোহানদের সঙ্গে আলোচনা করে জানান যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। এর পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বাদ দেওয়া, যা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে হয়েছে বলে অভিযোগ। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে বিসিবি ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করলেও আইসিসি তা গ্রহণ করেনি।
তবে ১০ ফেব্রুয়ারি নিজের শেষ কার্যদিবসে আসিফ নজরুল জানান, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তটি ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের। তার এই অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা করেন বাংলাদেশের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন। এ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘‘আমি আপনাকে বলি। প্রথম কথা হচ্ছে আমি যখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসেছিলাম, সালাহ উদ্দীন সাহেব সেখানে ছিলেন কি না জানি না। আমি ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বসেছিলাম, খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসেছিলাম। আমি বলেছিলাম, ‘আপনারা মুক্তভাবে আপনাদের মতামত জানান। আমি আপনাদের মতামত শুনতে চাই।’ কেউ জোরালোভাবে বলেননি যে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হচ্ছে না, ক্রিকেটের ক্ষতি হয়ে যাবে। তাঁদের টোন ছিল এরকম, ‘স্যার, আমরা তো খেলোয়াড়েরা তো খেলতে চাইবই। তবে আপনারা যে সিদ্ধান্ত নিবেন, তা মেনে নেব।’’
বিশ্বকাপ বর্জনের ফলে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘যে কথাগুলো বলা হয়েছিল ক্রিকেট না খেললে বাংলাদেশ অনেক ক্ষতির মুখে পড়বে টড়বে, আমরা তো অ্যাসেস করেছিলাম—কই ক্ষতির মুখে পড়ছে? বাংলাদেশে বিদেশি টিম এসে খেলছে না?’
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিসিবির আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করেছে। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হয়েছেন তামিম ইকবাল।










Discussion about this post