একটা ডাক, আর তাতেই বদলে গেল মেহেদী হাসান মিরাজের ক্রিকেট-সূচি। হঠাৎ করেই ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) মাঝপথে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে সিপিএল ছাড়ছেন, তার জায়গাতেই গায়ানার জার্সি পরবেন মিরাজ।
সিপিএলে মিরাজের এই ফেরা একটু বিশেষই। কারণ এই টুর্নামেন্টে এর আগে একবার দল পেলেও মাঠে নামা হয়নি তার। ২০১৭ সালে শাহরুখ খানের দল ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স মিরাজকে দলে নিয়েছিল। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে কয়েকটি ম্যাচের জন্য তাকে উড়িয়ে নেওয়া হলেও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
প্রায় নয় বছর পর এবার আবারও সিপিএলের দরজা খুলেছে মিরাজের জন্য। তবে এবার গল্পটা ভিন্ন। দল পেয়েছেন টুর্নামেন্টের মাঝপথে এবং কোনো দলের স্কোয়াডে শুধু জায়গা করে নেওয়ার জন্য নয়, সরাসরি একজন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ক্রিকেটারের বিকল্প হিসেবে।
নবীর জায়গায় গায়ানার হয়ে মিরাজের অভিষেক হতে পারে ৯ সেপ্টেম্বর। আপাতত ৯, ১০, ১২ ও ১৪ সেপ্টেম্বরের চার ম্যাচের জন্য তাঁর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। গায়ানা কোয়ালিফাইং রাউন্ডে উঠতে পারলে ম্যাচের সংখ্যা বাড়তে পারে।
গায়ানার এখনকার অবস্থানও মিরাজের জন্য বাড়তি আকর্ষণের। তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে ছয় পয়েন্ট পেয়েছে দলটি। পয়েন্ট তালিকায় তারা চতুর্থ স্থানে। গ্রুপ পর্বে এখনো সাতটি ম্যাচ বাকি। প্লে-অফের লড়াইয়ে দলটি বেশ ভালো অবস্থানেই আছে।
নবীর বিদায় অবশ্য খুব দূরের নয়। ৭ সেপ্টেম্বর সিপিএলে গায়ানার হয়ে শেষ ম্যাচ খেলার পর ভারতের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা তার। ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে শুরু হবে ভারত-আফগানিস্তানের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সেই সিরিজের প্রস্তুতির জন্যই সিপিএল ছাড়ছেন নবী।
আর সেই ফাঁকটাই সুযোগ করে দিয়েছে মিরাজকে।
গায়ানার ড্রেসিংরুমেও এবার থাকছে তারকার ছড়াছড়ি। শাই হোপ, শিমরন হেটমায়ার, গ্লেন ফিলিপস, রোমারিও শেফার্ড ও শামার জোসেফদের সঙ্গে একই দলে খেলবেন মিরাজ। অধিনায়ক হিসেবে আছেন অভিজ্ঞ ইমরান তাহির।
মিরাজ এর আগে পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্স ও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে গলে গ্ল্যাডিয়েটরসের হয়ে খেলেছেন। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স এখনো তেমন নজরকাড়া নয়। ফলে সিপিএলের এই সুযোগ তার জন্য শুধু আরেকটি বিদেশি লিগ খেলার সুযোগ নয়, নিজেকে প্রমাণ করারও মঞ্চ।



