প্রায় ছয় বছর পর বাংলাদেশ ক্রিকেটে ফিরেছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞ মারিও ভিল্লাভারায়ন। এবার জাতীয় দলের ট্রেনার হিসেবে নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের দায়িত্ব নিয়ে নতুন ভূমিকায় কাজ শুরু করেছেন তিনি।
নতুন দায়িত্বের শুরুতেই পেসারদের নিয়ে বিশেষ কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছেন মারিও। আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগকে (এনসিএল) সামনে রেখে এইচপির পেসারদের ফিটনেস, ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট এবং সামগ্রিক প্রস্তুতিতে নজর দিতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা বিশেষ এই কার্যক্রমের। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের দীর্ঘ মৌসুমে পেসারদের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং চোটের ঝুঁকি কমানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
এই কর্মসূচিতে মারিওর সঙ্গে কাজ করবেন বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের পেস বোলিং কোচ কোরি কলিমোর। পেসারদের প্রস্তুতির পুরো প্রক্রিয়ায় দলের ট্রেনার ও ফিজিওরাও যুক্ত থাকবেন। ফলে বোলিংয়ের কারিগরি প্রস্তুতির পাশাপাশি ফিটনেস, পুনর্বাসন ও শরীরের ওপর কাজের চাপ ব্যবস্থাপনায়ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকেই এইচপির পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন ক্যাম্প শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে সামনে ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি থাকায় ৩০ জনের বেশি ক্রিকেটারকে নিয়ে বড় পরিসরে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা আপাতত সরিয়ে নিয়েছে এইচপি বিভাগ। এর পরিবর্তে এনসিএল শুরুর আগ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সংখ্যক পেসারকে নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফরা।
মারিও ভিল্লাভারায়নের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের শক্তি ও কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি এবং ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলের ফিটনেস ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২০ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে তিনি আইপিএলের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদে যোগ দেন। পরে জাফনা স্ট্যালিয়ন্সের ফাস্ট বোলিং কোচ ও ফিটনেস ট্রেনারের দায়িত্বও পালন করেন।
এবার অবশ্য তার কাজের পরিধি ভিন্ন। বিসিবির রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের দায়িত্বের পাশাপাশি পেসারদের নিয়ে সরাসরি কাজের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে এনসিএলের মতো দীর্ঘ প্রথম শ্রেণির মৌসুমের আগে পেসারদের ওয়ার্কলোড পরিকল্পনা, শারীরিক প্রস্তুতি এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে পেসারদের চোট ও ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সময়ে জাতীয় দল, এইচপি ও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা পেসারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সেই বাস্তবতায় এনসিএলের আগে সীমিতসংখ্যক পেসারকে নিয়ে আলাদা করে কাজ করার এই উদ্যোগকে দীর্ঘ মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।



