দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজেলউড। ইনজুরির কারণে প্রায় নয় মাস জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়েই প্রত্যাবর্তনের আশা করছেন তিনি। শুধু দলে ফেরাই নয়, প্রথম টেস্টের একাদশে জায়গা করে নেওয়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
গত বছরের নভেম্বরে হ্যামস্ট্রিং ও পেশির চোটে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে নামা হয়নি হ্যাজেলউডের। চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেললেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনও ফেরার সুযোগ হয়নি। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজকে নিজের প্রত্যাবর্তনের আদর্শ মঞ্চ হিসেবে দেখছেন এই ডানহাতি পেসার।
সিরিজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রিসবেনের ন্যাশনাল ক্রিকেট সেন্টারে নিবিড় অনুশীলন করছেন হ্যাজেলউড। টেস্ট ম্যাচের আবহ তৈরি করে দীর্ঘ বোলিং সেশনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গণমাধ্যমকে হ্যাজেলউড বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বিস্তৃত প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছেন। টানা দুই দিন ধরে বোলিং সেশন করছেন, পাশাপাশি ফিটনেস ও অন্যান্য অনুশীলনও চলছে। টেস্ট ক্রিকেটের চাহিদা মাথায় রেখেই পুরো প্রস্তুতি সাজানো হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহেও একই ধরনের অনুশীলন অব্যাহত থাকবে।
৩৫ বছর বয়সী এই পেসার জানান, ধাপে ধাপে নিজের ফিটনেস ও ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন। তাঁর এখনকার একমাত্র লক্ষ্য বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামা। সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি আত্মবিশ্বাসী এবং প্রস্তুতিও সে অনুযায়ী এগিয়ে নিচ্ছেন।
তবে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া যে সহজ হবে না, সেটিও ভালোভাবেই জানেন হ্যাজেলউড। অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে বর্তমানে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, স্কট বোল্যান্ড, মাইকেল নেসার ও ব্রেন্ডন ডগেটের মতো বোলার রয়েছেন। ফলে প্রথম একাদশে জায়গা পেতে হলে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে।
তবে এই প্রতিযোগিতাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন হ্যাজেলউড। তাঁর মতে, আগামী এক থেকে দেড় বছরে অস্ট্রেলিয়ার সামনে অনেকগুলো টেস্ট সিরিজ রয়েছে। তাই পুরো পেস ইউনিটেরই বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজন হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, দলের সব পেসারই ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
বিশেষ করে স্কট বোল্যান্ডের প্রশংসা করে হ্যাজেলউড বলেন, তিনি বোল্যান্ডের সঙ্গে আরও বেশি টেস্ট খেলতে চান। সুযোগ পেলেই বোল্যান্ড নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পারফরম্যান্স আরও উন্নত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই অজি পেসার।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ হ্যাজেলউডের জন্য আরেকটি ব্যক্তিগত মাইলফলকের সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে প্রবেশ করতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র পাঁচটি উইকেট। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাত্র আটজন বোলার এবং ছয়জন পেসার এই অনন্য অর্জনের স্বাদ পেয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে সফল হলে সেই গৌরবময় তালিকায় নিজের নাম লেখানোর সুযোগ থাকবে হ্যাজেলউডের।
দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষা, একাদশে জায়গার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ৩০০ উইকেটের হাতছানি-সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ জশ হ্যাজেলউডের ক্যারিয়ারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।









Discussion about this post