বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাদা ও লাল বলের জন্য আলাদা অধিনায়কের যুগ শুরু হলো। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব থেকে মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে লিটন দাসকে দায়িত্ব দিয়েছে। ফলে এখন থেকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই ফরম্যাটেই নেতৃত্ব দেবেন লিটন, আর টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বে থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
এর মধ্য দিয়ে এক বছর এক মাসের কিছু বেশি সময়ের অধিনায়কত্বের ইতি ঘটল মিরাজের। ২০২৫ সালের ১২ জুন ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পেয়েছিলেন তিনি। দায়িত্ব পাওয়ার পর তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে ১০টিতে, হার ১৩টিতে এবং একটি ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভারে হেরে যায় বাংলাদেশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জয়ের হার ছিল ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। দেশের মাটিতে দল তুলনামূলক ভালো খেললেও বিদেশের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। দেশের বাইরে ১৩ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র দুটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হার, আফগানিস্তানের কাছে ৩-০ ব্যবধানে পরাজয় এবং সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার তার নেতৃত্বের বড় ব্যর্থতা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
মিরাজের অধিনায়কত্বের সময় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সুপার ওভারে রিশাদ হোসেনকে বোলিংয়ে না আনা এবং ম্যাচ পরিচালনায় কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিদেশের কঠিন কন্ডিশনে বোলিং পরিবর্তন, ম্যাচ পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তার নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা ছিল নিয়মিত।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি মিরাজ। অধিনায়ক হিসেবে ২১ ইনিংসে ৪৯০ রান করেছেন তিনি। গড় ২৭.২২ এবং স্ট্রাইক রেট ৭১.৩২। চারটি ফিফটির মধ্যে প্রথম চার ম্যাচেই ছিল তিনটি, এরপর শেষ ১৩ ইনিংসে আর কোনো অর্ধশতক পাননি। সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও সাম্প্রতিক ব্যাটিং ফর্মকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বোলিংয়ে মিরাজ তুলনামূলক ভালো করেছেন। ২৪ ইনিংসে নিয়েছেন ২৪ উইকেট, ইকোনমি রেট ছিল ৪.৪২। তবে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা এবং আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিনিশারের ভূমিকা পালনে তিনি পিছিয়ে ছিলেন বলেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
দলের ভারসাম্যও নেতৃত্ব পরিবর্তনের পেছনে একটি কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দলে প্রত্যাবর্তন এবং অলরাউন্ডার হিসেবে তার ভূমিকা নির্বাচকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। একই সঙ্গে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কন্ডিশন বিবেচনায় পেস বোলিং অলরাউন্ডারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে একাদশে জায়গা ধরে রাখার লড়াইয়ে মিরাজকে আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হতে পারে।
মিরাজকে শুরুতে এক বছরের জন্য অধিনায়ক করা হলেও পরে তার মেয়াদ ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তবে নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই নেতৃত্বে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
…









Discussion about this post