ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নিজের অভিষেকেই নজর কেড়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সেন্ট লুসিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
দ্বিতীয় ম্যাচে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে সেই পারফরম্যান্সকেও ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে দলকে এনে দিয়েছেন ৬ উইকেটের জয়। দুর্দান্ত বোলিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে মিরাজের হাতে।
ঘরের মাঠ প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। ৪.৩ ওভারে ৪১ রান তুলে ফেলেছিল তারা। এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মিরাজ। পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে এসে ১৬ বলে ২৬ রান করা কলিন মুনরোকে বোল্ড করে গায়ানাকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তিনি। একই ওভারে নিকোলাস পুরানকেও প্রথম বলেই বোল্ড করেন বাংলাদেশের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক।
এরপর জেড গুলি ও সুনীল নারিনকেও সাজঘরের পথ দেখান মিরাজ। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। গায়ানার হয়ে শামার জোসেফ নেন আরও ২ উইকেট। ইমরান তাহিরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর শিকার হন ২২ রান করা অ্যালেক্স হেলস। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান সংগ্রহ করে ত্রিনবাগো।
জবাবে ১২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৬ রানের মধ্যেই দুই ওপেনার মাভেন্দ্র দিনদিয়াল ও গ্লেন ফিলিপসকে হারায় গায়ানা। তবে শিমরন হেটমায়ার ও শাই হোপের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। হেটমায়ার ৩৫ বলে ৪২ রান এবং হোপ ১৯ বলে ২৮ রান করে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১৮.৪ ওভারে ৬ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় গায়ানা।
ব্যাট হাতে অবশ্য দিনটি ভালো কাটেনি মিরাজের। দলের জয়ের সময়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ বল খেলে মাত্র ২ রান করে আউট হন তিনি। তবে বল হাতে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই গায়ানার জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখে।
ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এটা আমার জন্য একটি দারুণ মুহূর্ত। আমি প্রথমবারের মতো সিপিএল খেলছি এবং ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পেয়েছি। ম্যাচটি আমি দারুণ উপভোগ করেছি।’
নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমি সঠিক জায়গায় বল করার এবং উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি জানতাম উইকেট কিছুটা টার্নিং ছিল এবং এটা স্পিনারদের সাহায্য করবে।’
গায়ানায় খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েও সন্তুষ্ট মিরাজ। তিনি বলেন, ‘(গায়ানায় খেলার অভিজ্ঞতা) এটি আমার জন্য সত্যিই দারুণ একটি মুহূর্ত। তারা খুবই ভালো; বিশেষ করে ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাই।’
সিপিএলে নিজেদের পরের ম্যাচ ও প্লে-অফ নিয়েও আশাবাদী মিরাজ। তিনি বলেন, ‘বার্বাডোসের বিপক্ষে আমাদের আরও একটি ম্যাচ বাকি আছে, এটা চ্যালেঞ্জিং আশা করি জিততে পারব। এরপর প্লে-অফ আছে সেখানে দুইটা ম্যাচ আছে জিতলে ফাইনালে যাব। আশা করছি আমরা পরের ম্যাচ জিততে পারব।’
নাইট রাইডার্সকে হারানোর পর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে গায়ানা। ৯ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৬। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স। লীগের শেষদিকে মিরাজের এমন দুর্দান্ত বোলিং গায়ানার শিরোপার দৌড়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।



