সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বল হাতে দাপট দেখিয়ে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনের খেলা শেষে বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তান প্রথম সেশনেই হারিয়েছে ৪ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলে দেন।
আজ মধ্যাহ্ন বিরতিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০ ওভারে ৪ উইকেটে ৯৬ রান। এখনও তারা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭৮ রানের চেয়ে ১৮২ রান পিছিয়ে।
দিনের শুরুতেই আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। তাঁর গতি ও নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে দ্রুত বিদায় নেন দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইস। এরপর পাকিস্তানের ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম। দুজন মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ২১ রান করে শানকে ফিরিয়ে দেন মিরাজ। পরে সৌদ শাকিলও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মিরাজের ঘূর্ণিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
একপ্রান্তে অবশ্য দৃঢ়ভাবে টিকে ছিলেন বাবর আজম। শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করেন তিনি এবং সুযোগ পেলেই রান তুলেছেন। মধ্যাহ্ন বিরতিতে ৫৮ বলে পাঁচ চারে ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন পাকিস্তানের এই তারকা ব্যাটার। তাঁর সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন সালমান আলি আগা, যিনি ১৫ বলে ৬ রান করেছেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখেন লিটন দাস। দল যখন ১২৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে, তখন লেজের ব্যাটারদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে খেলেন অসাধারণ এক ইনিংস। ১৫৯ বলে ১২৬ রান করে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। শরিফুল ইসলাম ১২ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ৭৭ ওভারে ২৭৮ রানে।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে খুররম শাহজাদ চারটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মোহাম্মদ আব্বাস নেন তিনটি উইকেট। হাসান আলী দুটি এবং সাজিদ খান একটি উইকেট পান।
প্রথম সেশনে চার উইকেট তুলে নিয়ে এখন পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টানার সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে দ্রুত আরও উইকেট তুলে নিতে পারলে বড় লিডের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে টাইগারদের।










Discussion about this post