বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপাতত ম্যাচের চেয়ে অপেক্ষাটাই যেন দীর্ঘ হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজে ঐতিহাসিক ড্রয়ের পর দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। এর মধ্যেই বুধবারের আইসিসি র্যাঙ্কিং হালনাগাদে বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যাটারের অবস্থানে নেমে যাওয়ার ছাপ পড়েছে। বিপরীতে আফ্রিকার মাঠে সদ্য শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারের জন্য খুলে দিয়েছে র্যাঙ্কিংয়ের নতুন দরজা।
সাপ্তাহিক হালনাগাদে এবার মূলত টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়েই বড় পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন লিটন দাস। দুই ধাপ পিছিয়ে টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় ৬৫ নম্বরে নেমেছেন তিনি। তার রেটিং পয়েন্ট ৪৯৬। মজার বিষয় হলো, লিটনের এই অবনমন সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সের ফল নয়। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার সর্বশেষ উপস্থিতি মে মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তিন ইনিংসে ব্যাট করেও রান করতে পারেননি তিনি।
পেছনে ফিরেছেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়ও। তিন ধাপ হারিয়ে ইমন এখন ৫৬ নম্বরে, তার রেটিং ৫১৪। হৃদয়ের অবনমন এক ধাপ; ৫৭৭ পয়েন্ট নিয়ে তিনি ৩৩ নম্বরে। জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়কত্ব করা হৃদয় সেই তিন ম্যাচে করেছিলেন ৪৪ রান। ইমনের ব্যাট থেকে এসেছিল ৩০ রান। বাংলাদেশের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজটিও র্যাঙ্কিংয়ের সিঁড়িতে তাদের অবস্থান শক্ত করার মতো পারফরম্যান্স এনে দিতে পারেনি।
বাংলাদেশের জন্য হতাশার এই ছবির ঠিক বিপরীত গল্প লিখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণেরা। নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হয়েছে প্রোটিয়াদের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। আর সেই সাফল্যের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার পেয়েছেন কনর এস্টারজেইন। পাঁচ ইনিংসে ১২৬ রান করা ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার এক লাফে ৬৫ ধাপ এগিয়ে টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে উঠে এসেছেন ২৫ নম্বরে। তার রেটিং পয়েন্ট ৬২৭।
তবে সংখ্যার দিক থেকে এস্টারজেইনের লাফকেও ছাপিয়ে গেছেন সতীর্থ লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াস। মাত্র চার ইনিংসে ২২৬ রান করে তিনি উঠে এসেছেন যৌথভাবে ৪৩ নম্বরে। তাঁর উন্নতি ৬১ ধাপ। বিশেষ করে নামিবিয়ার বিপক্ষে ৪ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটি তাঁর র্যাঙ্কিং উত্থানের বড় ভিত্তি। ৫৩ বলে পাঁচটি চার ও আটটি ছক্কায় ১০১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি।
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে ৪৮ রানে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়ন হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আলো ছড়িয়েছে আরও কয়েকটি নাম। নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস ব্যাট হাতে ১৪৯ রান ও বল হাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে চার ধাপ এগিয়েছেন। অষ্টম স্থানে উঠে এটিই হয়েছে তার ক্যারিয়ারসেরা অবস্থান। ব্যাটারদের তালিকাতেও ১৬ ধাপ এগিয়ে ৫৫ নম্বরে উঠেছেন তিনি। তার সতীর্থ লোরেন স্টিনক্যাম্পের উন্নতি আরও বড় ৩২ ধাপ উঠে যৌথভাবে ৭৩ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন।
জিম্বাবুয়ের পেসার ব্র্যাড ইভান্সও সিরিজের পারফরম্যান্সকে র্যাঙ্কিংয়ে রূপ দিয়েছেন। মাত্র ১৫.৮০ গড়ে ১০ উইকেট নেওয়ার পর বোলারদের তালিকায় চার ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ২২ নম্বরে উঠেছেন তিনি। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা দুই ধাপ এগিয়ে হয়েছেন ২৭তম। দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়েনা মাফাকা ১৬ ধাপ এবং বিয়র্ন ফর্টুইন ৩৭ ধাপ এগিয়েছেন।
বাংলাদেশের জন্য বোলিং র্যাঙ্কিং অবশ্য কিছুটা স্বস্তির। নাসুম আহমেদ এক ধাপ এগিয়ে ১১ নম্বরে উঠে এসেছেন। তার রেটিং পয়েন্ট ৬৪৬। তবে শীর্ষ দশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ৭৫৩ পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্তানের রশিদ খানই শীর্ষে, তাঁর পর পাকিস্তানের আবরার আহমেদ ও ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ।
ব্যাটারদের শীর্ষেও বড় পরিবর্তন নেই। ৯১০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ভারতের ইশান কিষাণ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। সাহিবজাদা ফারহান ও অভিষেক শর্মা যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয়। সেরা দশে শুধু ফিল সল্ট ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের জায়গা অদলবদল হয়েছে। এক ধাপ উঠে সল্ট এখন চতুর্থ, ব্রেভিস নেমে গেছেন পঞ্চমে।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও এসেছে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। বোলারদের তালিকায় ছয় ধাপ এগিয়ে পাঁচে উঠে এসেছেন ইংল্যান্ডের অলি রবিনসন। শীর্ষস্থান অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্কের দখলেই আছে। ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ দুই থেকে তিনে নেমেছেন, তার জায়গায় দ্বিতীয় হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ম্যাট হেনরি।
ব্যাটারদের তালিকায়ও পালাবদল ঘটেছে। এক ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ, আর ইংল্যান্ডের জো রুট নেমে গেছেন তৃতীয়তে। পাকিস্তানের সৌদ শাকিল ১৫ ধাপের বিশাল উন্নতি করে ১৮ নম্বরে উঠেছেন। শ্রীলঙ্কার সোনাল দিনুশার উন্নতি আরও ২৯ ধাপ, তাতে তিনি উঠে এসেছেন ২৫ নম্বরে।



