অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতিটা জয় দিয়ে রাঙাতে পারেনি বাংলাদেশ নারী দল। কুইন্সল্যান্ড ফায়ারের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৭২ রানে হেরেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। তবে ফলাফলের বাইরে ম্যাচটিতে বাংলাদেশের জন্য খুঁজে নেওয়ার মতো ইতিবাচক দিকও আছে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে দেখা গেছে আগের চেয়ে বেশি ইতিবাচক মানসিকতা। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটাররা রান করার চেষ্টা করেছেন, ডট বল কমানোর তাগিদও ছিল স্পষ্ট।
নতুন প্রধান কোচ ডেভিড হেম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের ব্যাটিংয়ে এমন পরিবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছেন। দলের সঙ্গে যোগ দিয়েই ক্রিকেটারদের নিয়ে দীর্ঘ সেশনে বসেছেন তিনি। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের দায়িত্ব আলাদা করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। প্রস্তুতি ম্যাচের আগেও প্রায় তিন ঘণ্টার মিটিং করেছেন। শুধু দলীয় পরিকল্পনা নয়, ক্রিকেটারদের আলাদাভাবে ভালো করার উপায় নিয়েও কাজ করেছেন এই ইংলিশ কোচ।
অনুশীলনেও ছিল তাঁর পরিকল্পনার ছাপ। ১৬ ক্রিকেটারকেই নেটে ব্যাটিং করিয়েছেন হেম্প। বোলারদের কে কখন কতটা বল করবেন, সেটিও আগে থেকেই পরিকল্পনা করে জানিয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের। অর্থাৎ মাঠে নামার আগে প্রত্যেক ক্রিকেটার যেন নিজের ভূমিকা সম্পর্কে পরিষ্কার থাকেন, সেটিই নিশ্চিত করতে চাইছেন তিনি।
কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে সেই পরিকল্পনার কিছুটা প্রতিফলন দেখা গেছে। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ৩৬ ওভারে নেমে আসে। প্রথমে ব্যাট করে কুইন্সল্যান্ড ফায়ার ৯ উইকেটে ২৬৮ রান করে। জবাবে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১৯৬ রান করে থামে।
বাংলাদেশের হয়ে শারমিন আক্তার সুপ্তা ৬৭ বলে ৬৮ রান করেছেন। সোবহানা মোস্তারি করেছেন ৪৯ রান। শারমিন সুলতানার ব্যাট থেকে এসেছে ২৮ রান। ফলে হারলেও ব্যাটারদের মধ্যে বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় রান করার মানসিকতা কিছুটা স্পষ্ট ছিল।
বাংলাদেশ নারী দলের ব্যাটিংয়ে দীর্ঘদিনের অন্যতম সমস্যা ডট বল। মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে যাওয়া এবং শেষ দিকে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় বড় সংগ্রহ গড়তে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয় দলকে। হেম্পের অধীনে সেই জায়গাতেই পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। প্রস্তুতি ম্যাচে তার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেটি ধরে রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ৯ অক্টোবর। পরের দুই ম্যাচ ১১ ও ১৪ অক্টোবর। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের মেয়েদের এটিই প্রথম দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ।
প্রতিপক্ষ যখন অস্ট্রেলিয়া, তখন শুধু উইকেট ধরে রাখলেই হবে না; রানও করতে হবে দ্রুত। সেই জায়গায় হেম্পের পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, তার প্রথম বড় পরীক্ষা হবে এই সিরিজেই।
কুইন্সল্যান্ডের কাছে ৭২ রানের হার তাই বাংলাদেশের জন্য শেষ কথা নয়। বরং অস্ট্রেলিয়ার কঠিন পরীক্ষার আগে এটি ছিল নিজেদের ভুল-ত্রুটি দেখে নেওয়ার সুযোগ। স্কোরবোর্ডে হার থাকলেও ব্যাটিংয়ের মানসিকতায় যদি পরিবর্তনের শুরু হয়ে থাকে, সেটিই হতে পারে নতুন কোচের অধীনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।



