বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের অধ্যায়ের সমাপ্তি নিয়ে এবার কোনো সংশয় রইল না। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ঘোষণা দিয়েছেন, জাতীয় দলে সাকিবের আর কোনো সুযোগ নেই।
গত বছরের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই জাতীয় দলে সাকিবের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে না পারা, একের পর এক মামলা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তাকে আরও কোণঠাসা করে তোলে। শেষ পর্যন্ত গত রোববার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানানোর পর নতুন বিতর্কের জন্ম হয়।
এ প্রসঙ্গেই সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন টোয়েন্টি ফোর-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘তাকে বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের জার্সির পরিচয় বহন করার সুযোগও দেওয়া সম্ভব নয়। ইতিপূর্বে এভাবে বোর্ডকে না বললেও এখন আমার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে-সাকিব আল হাসান আর কখনো বাংলাদেশ টিমে খেলতে পারবেন না।’
কেন এমন সিদ্ধান্ত, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (সাকিব) বারবার দাবি করেছেন তাকে নাকি জোর করে নমিনেশন দেওয়া হয়েছিল, রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, তিনি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, যার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আইন সবার জন্য সমান-শুধু ভালো ক্রিকেটার বলেই কাউকে ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।’
ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি লেখালেখিতেও দুই পক্ষ অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আসিফ লিখেছেন, ‘যার হাত ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত, তাকে পতাকা বহনের সুযোগ নেই। শেয়ার কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে মানি লন্ডারিং-এসব দায় নিয়েও কাউকে জাতীয় দলে ফেরানো যায় না।’
এর জবাবে সাকিব নিজের স্ট্যাটাসে বলেন, ‘শেষমেশ কেউ একজন স্বীকার করলেন যে তার জন্যই আমার আর বাংলাদেশের হয়ে খেলা হলো না।’
তবে শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি নিয়ে সাকিবের ব্যাখ্যা হলো, ‘তিনি খেলার প্রতি সব সময় আগ্রহী ছিলেন, নিয়মিত খেলা দেখতেন। সেখান থেকেই সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাই জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো ছাড়া এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’










Discussion about this post