বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র আইসিসি এলিট প্যানেলের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতকে ঘিরে গত ৩ আগস্ট থেকে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তার সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চুক্তি শেষ হওয়া এবং বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার নিজেদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করেছে বিসিবি।
বোর্ড জানিয়েছে, এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং ২০২৬ সালের এপ্রিলেই সৈকতের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং এরপর তা আর নবায়ন করা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে সিরিজভিত্তিক দায়িত্বে তাকে বিবেচনায় রাখার কথাও জানিয়েছে বোর্ড।
বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের আম্পায়ারিংকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। আইসিসির এলিট প্যানেলে জায়গা পাওয়ার পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে জাসপ্রীত বুমরাহ ও স্যাম কনস্টাসের উত্তপ্ত পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেওয়া, যশস্বী জয়সওয়ালের কট বিহাইন্ডের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কিংবা সর্বশেষ অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফিতে বেন স্টোকসকে দেওয়া এলবিডব্লিউয়ের মতো সিদ্ধান্তগুলো তার দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন ভারতের খ্যাতিমান ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলেও।
এমন একজন আম্পায়ারের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি নবায়ন না হওয়ার খবর প্রকাশের পর সমর্থকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে বিসিবি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে।
বিসিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছে, ‘আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। শরফুদ্দৌলা বিসিবির প্যানেল আম্পায়ার হিসেবে বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন।
তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হয় এবং পরে তা ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার চুক্তি আর নবায়ন করা হয়নি। এর পেছনে বিবেচনায় রাখা হয়েছে আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার হিসেবে তার ক্রমবর্ধমান দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্বের কারণে বিসিবির হয়ে আগের মত নিয়মিত দায়িত্ব পালন করার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। ফলে বোর্ডের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসেই শেষ হয়েছে।’
‘এখানে উল্লেখযোগ্য যে, আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় রাখা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সাধারণ চর্চা নয়। এর প্রধান কারণ হলো আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সূচির মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বিসিবি আগামীতে শরফুদ্দৌলাকে দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক সিরিজের পাশাপাশি দেশের প্রথম শ্রেণির, লিস্ট ‘এ’ এবং টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায়, তার প্রাপ্যতা সাপেক্ষে, দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তার আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিসিবি তাকে ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে আম্পায়ারের দায়িত্ব দিয়েছিল। সামনেও তার সময়সূচি পক্ষে থাকলে বিভিন্ন দায়িত্বের জন্য বিবেচনা করতে বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।’
‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে, বিশেষ করে আম্পায়ারিং এবং দেশের আম্পায়ারদের মান উন্নয়নে শরফুদ্দৌলার অসামান্য অবদানের জন্য বিসিবি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করছে বোর্ড এবং আগামী দিনে আবারও তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে সবসময়ই বোর্ড স্বাগত জানাবে।’
আইসিসির এলিট প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগেই শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত বিশ্বকাপসহ আইসিসির একাধিক বড় টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি এবং বাংলাদেশের আম্পায়ারিংকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করে চলেছেন।










Discussion about this post