বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত অস্ট্রেলিয়া। তবে সিরিজ শুরুর আগেই স্বাগতিক শিবিরে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। প্রস্তুতি ক্যাম্পের প্রথম দিনেই পিঠে চোট পেয়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জশ ইংলিস। ফলে ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তার খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
ব্রিসবেনে এক সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্পের প্রথম দিন নিজেদের মধ্যে একটি অনুশীলন ম্যাচ খেলছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। ম্যাচ চলাকালেই একটি শট খেলার পর পিঠে অস্বস্তি অনুভব করেন ইংলিস। পরে পিঠের পেশিতে খিঁচুনি নিয়ে মাঠ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম কোডস্পোর্টস জানিয়েছে, ইংলিসের চোট গুরুতর নয়। তবে তার আগেও পিঠে চোটের ইতিহাস থাকায় এবার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। সে কারণেই আগামী সপ্তাহে ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তার খেলার সম্ভাবনা খুবই কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত টেস্ট সূচি থাকায় একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে অযথা ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন দেখছে না নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট। আগামী ১২ মাসে সম্ভাব্য ২১টি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারে অস্ট্রেলিয়া। ফলে স্কোয়াডে পরিবর্তন এবং নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে ইংলিসকে পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে পড়া হিসেবে দেখছে না অস্ট্রেলিয়া। বরং তাকে দ্বিতীয় টেস্টে ফেরানোর লক্ষ্যেই এগোচ্ছে দল। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে আইপিএলে ফিল্ডিং করার সময় হাতের আঙুলে চোট পেয়েছিলেন তিনি। সেই চোট কাটিয়ে মে মাসে আবারও মাঠে ফেরেন। মিচেল মার্শের অনুপস্থিতিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ইংলিসের সম্ভাব্য অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশেষ করে স্পিন বোলিং মোকাবিলায় তার দক্ষতা দীর্ঘদিন ধরেই প্রশংসিত। বাংলাদেশের স্পিননির্ভর আক্রমণের বিপক্ষে এমন একজন ব্যাটারের না থাকা স্বাগতিকদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
যদিও ইংলিসের চোট নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তার বিকল্প হিসেবে দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি। পাশাপাশি ব্যাটিং বিভাগে ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ ও জ্যাক ওয়েদারাল্ডের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটার এবং ক্যামেরন গ্রিন ও বিউ ওয়েবস্টারের মতো অলরাউন্ডারদের নিয়েই শক্তিশালী একাদশ গড়ার সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। তবে ১৩ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের আগে ইংলিসের শারীরিক অবস্থাই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে স্বাগতিক শিবিরে।



