একমাত্র টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হচ্ছে আজ বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে। সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ ও ১৯ জুলাই।
যদিও ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ, ছোট সংস্করণের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে টাইগারদের পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হারলেও তার আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পাশাপাশি এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার খুব কাছাকাছিও পৌঁছেছিল দলটি।
এই সিরিজে নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে ছুটি নেওয়ার পর চোটে পড়ায় মাঠের বাইরে আছেন তিনি। ফলে নেতৃত্বের দায়িত্ব আবারও পড়েছে তাওহিদ হৃদয়ের কাঁধে। প্রথম টি-টোয়েন্টির আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দল, নেতৃত্ব ও সিরিজ নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন তিনি।
সিরিজ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে হৃদয় বলেন, ‘আসলে দেখুন এখানে দুইটি ফলই সম্ভব, হয় আমরা জিতব নয়ত আমরা হারব। এখানে ভিন্ন ফরম্যাটে খেলা, ভিন্ন ভেন্যুতে। যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি তাহলে আশা করছি ফল আমাদের পক্ষে আসবে।’
হারারে থেকে বুলাওয়েতে ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘ভিন্ন কন্ডিশন, সাথে ভিন্ন ভেন্যুও। আমরা যদি নির্দিষ্ট দিনে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে। কী ধরনের ভুল করেছি (ওয়ানডে সিরিজে), সেগুলো আমরা জানি। আশা করছি এবার ভুলগুলো কমাতে পারব এবং এই ফরম্যাটে বেশি মনোযোগী।’
জিম্বাবুয়েকে সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন না হৃদয়। স্বাগতিকদের শক্তিমত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হোম কন্ডিশনে জিম্বাবুয়ে অনেক ভালো দল। এখানে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমরা আমাদের শক্তির ব্যাপারে জানি। আশা করি এবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’
বাংলাদেশ দলের সামর্থ্যের প্রতিও আস্থা রয়েছে অধিনায়কের। হৃদয় বলেন, ‘আমাদের দল বেশ শক্তিশালী। গত কয়েক সিরিজে আমরা বেশ ভালো করেছি। যদি সেই ধারাটা ধরে রাখতে পারি অবশ্যই ফল আমাদের পক্ষে আসবে। এখানে ছোট ফরম্যাটের খেলা, (ওয়ানডের চেয়ে) ভিন্ন ধাঁচের খেলা। মোমেন্টাম অনেক জরুরি এখানে। এখানে ভালো সুযোগ থাকবে। চেষ্টা করব ইতিবাচক থাকার।’
চাপকে পেশাদার ক্রিকেটেরই অংশ হিসেবে দেখছেন হৃদয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চাপ সব জায়গাতেই থাকবে। পেশাদার হিসেবে এগুলো হ্যান্ডেল করতেই হবে। এখানে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। যদি নির্দিষ্ট দিনে ভালো ক্রিকেট খেলি তাহলে ফল আসবে।’
লিটনের অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া হৃদয় নিজের লক্ষ্যও পরিষ্কার করে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই টার্গেট দলকে জেতানো। আমি দলকে আমার দিক থেকে যতটা পারব সার্ভ করার চেষ্টা করব। অবশ্যই এটা গর্বের ব্যাপার। দিনশেষে ফলও জরুরি। আমরা দল হিসেবে চাইব সিরিজ যেন জিততে পারি। ম্যাচ ধরে ধরে খেলাই বেশ ভালো। প্রথম ম্যাচ নিয়েই ফোকাস করতে চাই। নির্দিষ্ট দিনে যদি ভালো করতে পারি, ইনশাআল্লাহ (ফল আসবে)।’
বাংলাদেশের সঙ্গে বুলাওয়ের কন্ডিশনের পার্থক্যও স্বীকার করেছেন হৃদয়। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘অবশ্যই অনেক তফাৎ। এখানে অনেক ঠাণ্ডা। উইকেটও ভিন্ন। সব মিলিয়েই ভিন্ন কন্ডিশন। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এখানে মানিয়ে নেওয়াটাও জরুরি।’
তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে আজ বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ওয়ানডে সিরিজের হতাশা কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি দিয়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগাররা।










Discussion about this post