নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা মরার ম্যাচে জয় থেকে মাত্র কয়েক কদম দূরে গিয়েও হোঁচট খেল বাংলাদেশ নারী দল। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ রান, কিন্তু চাপের মুখে একের পর এক উইকেট হারিয়ে জয়ের খুব কাছ থেকে ফিরে আসতে হলো নিগার সুলতানাদের। ফলাফল-৭ রানের পরাজয় এবং সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ।
মুম্বাইয়ে আজ অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কা ৪৮.৪ ওভারে ২০২ রানে অলআউট হয়। শুরুতেই মারুফার গতিময় ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান ভিষমি গুনারত্নে। তবে এরপর চামারি আতাপাত্তু ও হর্শিতা পেরেরা মিলে গড়ে তোলেন শক্ত ভিত। অধিনায়ক আতাপাত্তু ৪৩ বলে ৪৬ রান করে আউট হলেও পেরেরা এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেন দুর্দান্ত ৮৫ রানের ইনিংস। তবে পেরেরা ফিরে যাওয়ার পর বাকি ব্যাটাররা দাঁড়াতে পারেননি, দ্রুত উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০০ রানের কাছাকাছি গিয়ে থামে লঙ্কান ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলার ছিলেন স্বর্ণা আক্তার, ২৭ রানে নেন ৩ উইকেট। রাবেয়া খান নেন ২ উইকেট।
২০২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই শূন্য রানে ফিরে যান ওপেনার রুবাইয়া হায়দার। অপর ওপেনার ফারজানা হক ছিলেন বেশ মন্থর, ৩৫ বলে করেন মাত্র ৭ রান। এরপর দ্রুত ফিরে যান সুবহানা মুস্তারিও। ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এই পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলেন শারমিন আক্তার সুপ্তা ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। সুপ্তা ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে অবদান রাখলেও ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর জ্যোতির সঙ্গে জুটি বাঁধেন স্বর্ণা, তবে তিনি ১৯ রান করে আউট হলে আবার ছন্দপতন ঘটে। শেষদিকে রিতু, রাবেয়া, নাহিদারা চেষ্টা করলেও কেউই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। ৭৭ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে জ্যোতিও শেষ ওভারে আউট হয়ে যান, যখন জয়ের জন্য দলটির দরকার ছিল মাত্র কয়েক রান।
শেষ ওভারে নাটকীয়তা চরমে ওঠে। চামারি আতাপাত্তু প্রথম বলেই রাবেয়াকে এলবিডব্লিউ করেন। পরের বলে এক রান নিতে গিয়ে রানআউট হন নাহিদা। তৃতীয় বলে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জ্যোতি, আর চতুর্থ বলেই মারুফা হন এলবিডব্লিউ। শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল ৯ রান, কিন্তু বাংলাদেশ তুলতে পারে মাত্র ১ রান, হার মানে ৭ রানে।
এই হারে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচজুড়ে দারুণ লড়াই করেও শেষ মুহূর্তের ব্যাটিং ব্যর্থতা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল-চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞতা আর ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্ব কতটা। জয়ের এত কাছে এসেও হেরে যাওয়ার এই কষ্ট অনেকদিন কুরে কুরে খাবে বাংলাদেশের নারী দলকে।










Discussion about this post