শুরুতে ছিল সাময়িক দায়িত্ব। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ হলেই জাতীয় দলের সঙ্গে পথচলা থেমে যাওয়ার কথা ছিল তালহা জুবায়েরের। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর বদলে গেছে সেই হিসাব। ভারপ্রাপ্ত পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তালহার মেয়াদ এবার দীর্ঘ হচ্ছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, শুধু অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নয়, আগামী মাসের আফগানিস্তান সিরিজেও জাতীয় দলের সঙ্গে থাকছেন তালহা। এরপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজেও তার দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে। এখানেই শেষ নয়, নভেম্বরের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও দলের সঙ্গে যাবেন সাবেক এই ক্রিকেটার।
চলতি বছরজুড়েই জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচের দায়িত্বে দেখা যাবে তালহা জুবায়েরকে। নতুন চুক্তির মেয়াদ ঠিক কতদিনের জন্য হচ্ছে, সেটি অবশ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
গত জুনে পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেন শন টেইট। তাঁর বিদায়ের পর জিম্বাবুয়ে সিরিজে প্রথমবারের মতো ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান তালহা। পরে অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও তিনিই সামলেছেন পেসারদের নিয়ে কাজ। শুরুতে দায়িত্বটি ছিল কেবল অস্থায়ী, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অস্থায়িত্বই এখন দীর্ঘমেয়াদি রূপ পাচ্ছে।
শুধু পেস বোলিং বিভাগেই নয়, জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে দেশিদের উপস্থিতিও থাকছে। ফিল্ডিং কোচ আশিক মজুমদারও আপাতত দায়িত্বে থাকছেন বলে জানা গেছে।
ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়েও তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের হারের পর তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু সেই আলোচনা আপাতত থেমে গেছে। আশরাফুলই থাকছেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে।
সব মিলিয়ে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে দেশিদের ওপর নির্ভরতা বাড়ার ছবিটাই এখন স্পষ্ট হচ্ছে। আর এর পেছনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাওয়া ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ও বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আশরাফুল নিজেও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তার ভাষায়, বাংলাদেশি কোচিং স্টাফের এতজন একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করছেন-এমন অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। খেলোয়াড়দের সাহায্য করার পাশাপাশি কোচদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা।
বিদেশি কোচের ওপর নির্ভরশীলতার দীর্ঘ অভ্যাসের মাঝে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাই ধীরে ধীরে অন্য এক ছবি দেখা যাচ্ছে। টেইট নেই, কিন্তু পেস বোলিং বিভাগে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তালহা। ব্যাটিংয়ে আশরাফুল, ফিল্ডিংয়ে আশিক।



