আইপিএল থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ভূমিকা ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনার পরও বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। ভারতীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন।
এই প্রেক্ষাপটে আজ সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিশ্বকাপ চলাকালে কলকাতা বা মুম্বাইয়ের মতো শহরে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা নিরাপদ থাকবেন কি না এবং এ নিয়ে বিসিবি কোনো অবস্থান নেবে কি না। উত্তরে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘টুর্নামেন্ট (বিশ্বকাপ) আয়োজন করছে আইসিসি, ভারত হচ্ছে স্বাগতিক। আমাদের কিছু যোগাযোগ করার দরকার হলে আইসিসিতে করব।’
এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে যৌথ স্বাগতিক হিসেবে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তান যেমন নিজেদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে, বাংলাদেশও কি তেমন কোনো বিকল্প ভেন্যুর আবেদন জানাতে পারে-এমন প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আইসিসিই ঠিক করবে কোনটি উপযুক্ত ভেন্যু হবে।’
মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়ার বক্তব্যের পর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
তবে বিসিবি জানিয়েছে, এখনো তারা বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা বার্তা পায়নি। এতে বিসিবিকে ছোট করা হলো কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘ছোট করা হচ্ছে বা এই ধরনের ব্যাপারগুলো থেকে আমরা বেরিয়ে আসি। এই ধরনের অভিজ্ঞতা আগে আমাদের ছিল না। এটা প্রথমবার। আমাদের কাউন্টারপার্ট থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা কিছু জানতে পারিনি। কিছু না জানা পর্যন্ত তো কোনো অ্যাকশন নিতে পারছি না। আমরা যেটা বলছি, আমাদের ক্রিকেটারদের মর্যাদা, নিরাপত্তা, সব সময় আমাদের প্রাধান্য। সেটির জন্য সম্ভাব্য সেরা সিদ্ধান্ত আমরা নেব সময়মতো।’
এর মধ্যেই নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বাংলাদেশ–ভারত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। মাত্র এক দিন আগেই বাংলাদেশ সফরের সূচি ঘোষণা করেছিল বিসিবি। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভারত-বিরোধী মনোভাবের কথা উল্লেখ করে জানা গেছে, পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে ভারত। যদিও বিসিসিআই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।










Discussion about this post