বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন কেবল মাঠের পারফরম্যান্সে নয়, প্রশাসনিক অঙ্গনেও এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ পার করছে। এই পরিবর্তনের গতিপথ নির্ধারণ করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটি, যারা স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনের দিকে এগোতে চায়। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠক যেন সেই পথচলার গতি আরও বাড়িয়ে দিল।
এই বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কাউন্সিলর কাঠামো নির্ধারণ। ১৯২ জন কাউন্সিলরের তালিকা চূড়ান্ত করে বোর্ড আসলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক দরজা খুলে দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন সংস্থা, ক্লাব ও সংগঠনের মাধ্যমে এই কাউন্সিলররা মনোনীত হবেন। নির্ধারিত সময়সীমা ১৬ মে-অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কারা ভোটাধিকার পেয়ে আসন্ন নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণ করবেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বোর্ডের প্রতিটি পদক্ষেপই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে নেওয়া। এডহক কমিটির নেতৃত্বে থাকা তামিম ইকবালের জন্য এই দায়িত্ব একদিকে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে সুযোগও বটে। কারণ, মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সহজ কাজ নয়। এর আগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পরই এই অন্তর্বর্তী কাঠামো গড়ে ওঠে, যা এখন মূলত সেতুবন্ধনের ভূমিকায়।
বোর্ডের এই ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত ক্রিকেট কার্যক্রম থেমে নেই। আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তাদের দায়িত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিন মাসের জন্য চুক্তি বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয়, প্রশাসনিক পরিবর্তনের মাঝেও মাঠের ক্রিকেট যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়-সে ব্যাপারে সতর্ক বিসিবি।
দেশের ক্রিকেটের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে জেলা পর্যায়ে নতুন কোচ নিয়োগের পরিকল্পনাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ৬৪ জেলায় কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়াকে এবার আরও কাঠামোবদ্ধ করা হচ্ছে। শুধুমাত্র আবেদন করলেই হবে না, প্রার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞান ও মাঠের দক্ষতা-দুই ক্ষেত্রেই নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিভা বিকাশের পথ আরও সুগম করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।









Discussion about this post