মিরপুর টেস্টে আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারছে না স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৯ রান। সব মিলিয়ে সফরকারীদের বিপক্ষে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে।
আজ দিনের শেষভাগে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছেন জাকের আলী অনিক ও নাঈম হাসান। দুজনই ১৮ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন। ৩২ বলে এক চারে জাকের এবং ৩০ বলে দুই চারে নাঈম নিজের ইনিংস সাজিয়েছেন। তবে তাদের এই প্রতিরোধ কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য বড় প্রশ্ন।
চা বিরতির আগে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৪ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। বিরতির পরও ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে বের হতে পারেনি দল। ফিরে যান লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০ বলে ৪ রান করে লিটন বিদায় নেন। অন্যদিকে ৩২ বলে ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন মিরাজ। এরপর ক্রিজে এসে জাকেরের সঙ্গে জুটি গড়েন নাঈম। দুজন মিলে কিছুটা ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করলেও আলোকস্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে তাঁদের লড়াই খুব বেশি দূর এগোয়নি।
এর আগে ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। দলীয় ১ রানেই শামার জোসেফের বলে শূন্য রানে আউট হন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদমান ইসলাম কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে তিন বলের ব্যবধানে বিদায় নেন সাদমান ও তাওহিদ হৃদয়। ৩০ বলে ১৩ রান করে রোস্টন চেইজের বলে বোল্ড হন সাদমান। আর বড় শট খেলতে গিয়ে মিড-অনে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন হৃদয়।
এরপর এক ওভার বিরতি দিয়ে শান্তকেও ফিরিয়ে দেন চেইজ। ৩৭ বলে ১০ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। লিটন দাসও রিভিউ নিয়ে শেষ রক্ষা করতে পারেননি। পরে জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এভাবেই মাত্র ৭৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের এই বিপর্যয় আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে দলের দীর্ঘদিনের ব্যাটিং দুর্বলতা। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর টেস্টেও সেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। একের পর এক উইকেট হারানোর পর ইনিংসের হাল ধরার মতো ব্যাটারের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মিরপুরের উইকেটে। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সাদমানের দ্রুত বিদায় এবং হৃদয়ের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট দলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
অথচ প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন নাঈম হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১০ ওভার বল করেই ৩৩ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন এই স্পিনার। তার ঘূর্ণিতেই শেষ ১১ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭২ রানের জবাবে ২৭ রান পিছিয়ে থেকে থামে সফরকারীদের ইনিংস।
নাঈমের পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ধসের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশের অন্য বোলাররাও। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে সেই নাঈমই এখন দলের ভরসা হয়ে উঠেছেন। তার সঙ্গে ক্রিজে থাকা জাকের আলীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মুমিনুল হকের কনকাশন বদলি হিসেবে এই ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছেন জাকের। এর আগে লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে বদলি ফিল্ডার হিসেবে কিপিংও করেছিলেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল বোলার অধিনায়ক রোস্টন চেইজ। ২৫ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ৩ উইকেট। জোমেল ওয়ারিক্যানের শিকার ২ উইকেট এবং শামার জোসেফ পেয়েছেন ১ উইকেট।
উল্লেখ্য, টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত ৯০ ওভার খেলা সম্ভব হয়নি। তৃতীয় দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৬৪.৫ ওভার। দুই দলের মোট ১২টি উইকেটের পতন ঘটেছে এদিন। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে দিনের খেলা শেষ হওয়ায় ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণের জন্য এখন অপেক্ষা চতুর্থ দিনের।



