প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের এগিয়ে থাকা দলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচে দাঁড়াতে পারল না। ব্যাটিংয়ের দুই ইনিংসেই ধারাবাহিকতার অভাবে মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটের পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ। চতুর্থ ইনিংসে সফরকারীদের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৭০ রান। সেই রান তাড়া করতে নেমে জয় তুলে নিতে খুব বেশি সময় নেয়নি ক্যারিবীয়রা।
শনিবার মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের চতুর্থ দিনেই পরাজয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। ৩৫.১ ওভারে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সফরকারীদের হাতে। ১১ ওভারেই দলের স্কোর পঞ্চাশের ঘরে নিয়ে যান তারা।
অথচ ম্যাচের শুরুতে পরিস্থিতি ছিল বাংলাদেশের অনুকূলে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে আটকে দিয়ে ২৭ রানের লিডও আদায় করে নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই সুবিধা ধরে রাখার মতো ব্যাটিং করতে পারেনি দল।
আগের দিনের ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে শনিবার মাঠে নামে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই জাকের আলির বিদায়ে আরও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর শেষ দিকের ব্যাটারদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন নাঈম হাসান। তার ৩৩ রানের ইনিংসের সঙ্গে হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামের ছোট ছোট অবদান মিলিয়ে শেষ চার উইকেটে কিছু রান যোগ হয়। তবু ১৪২ রানের বেশি এগোতে পারেনি বাংলাদেশের ইনিংস।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের এই দুর্দশার বিপরীতে দুর্দান্ত ছিলেন ক্যারিবীয় স্পিনাররা। রস্টন চেইস ৩৬ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস গুঁড়িয়ে দেন। জোমেল ওয়ারিক্যানের শিকার চার উইকেট। দুজনের স্পিন আক্রমণের সামনে স্বাগতিক ব্যাটারদের অসহায়ত্বই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
সবচেয়ে হতাশার বিষয়, একই উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা যেখানে টার্ন ও বাউন্স আদায় করে নিয়েছেন, সেখানে বাংলাদেশের স্পিনাররা প্রতিপক্ষকে সেভাবে চাপে ফেলতে পারেননি। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পাওয়ায় ১৭০ রানের লক্ষ্যও ক্যারিবীয়দের জন্য কঠিন হয়ে ওঠেনি।
এই পরাজয়ে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের টানা পাঁচ টেস্ট জয়ের ধারায় ছেদ পড়ল। জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সাফল্যের পর এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারল দল। একই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যাওয়ার পথও কঠিন হয়ে উঠেছে। বাকি পাঁচ ম্যাচের অন্তত চারটিতে জয়ের পাশাপাশি একটি ম্যাচ ড্র করতে হবে বাংলাদেশকে।
দুই ম্যাচের সিরিজে পিছিয়ে পড়ার পর এখন ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষা। আগামী ৫ নভেম্বর শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।



