স্বীকৃত ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে ব্যাট হাতে আলো ছড়ালেন নাঈম হাসান। তাওহীদ হৃদয়, তানজিদ হাসান তামিম ও লিটন দাসের মতো ব্যাটাররা দুই অঙ্কের রানও করতে পারেননি। সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্ত দুই অঙ্কে পৌঁছালেও খেলতে পারেননি বড় ইনিংস।
এমন পরিস্থিতিতে আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি তুলে নিয়েছেন নাঈম। তার গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ভর করে মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার চতুর্থ দিনের সকালে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের লড়াই শেষ হয় ১৪২ রানে। ৪৮.৪ ওভার ব্যাট করে অলআউট হওয়ার আগে ৫২ রানের ইনিংস খেলেন নাঈম। তার ৫২ রানের ইনিংসটি এসেছে এমন এক উইকেটে, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের। রস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিকানের বলে টার্নের পাশাপাশি ছিল অসমান বাউন্স। কখনো বল নিচু হয়ে আসায় ব্যাটিং আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
দিনের খেলা শুরু হওয়ার আগে ২৯ ওভারে ৬ উইকেটে ৭৯ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। আগের দিনের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর চতুর্থ দিনে স্বীকৃত ব্যাটার জাকের আলী অনিকের দিকে তাকিয়ে ছিল দল। কিন্তু দিনের শুরুতেই হতাশ করেন তিনি। জোমেল ওয়ারিকানের বলে চার মারার পরের বলেই স্লিপে রস্টন চেজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাকের। ৩৪ বলে দুই চারে ২২ রান করেন তিনি। তাঁর বিদায়ে ২৯ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৮৪ রান।
এরপর নাঈমকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান বাংলাদেশের বোলাররা। ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডারদের হাত থেকে একাধিকবার জীবন পান নাঈম। বিশেষ করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে তিনটি ক্যাচ মিস করে সফরকারীরা। এর মধ্যে দুবার নাঈমের ক্যাচ ছাড়েন রস্টন চেজ। ৩৪তম ওভারের প্রথম বলে প্রথম স্লিপে তার ক্যাচ মিসের পর বলটি সীমানা পেরিয়ে যায়। তখন নাঈমের রান ছিল ২১। ৩৬তম ওভারের শেষ বলেও তার ক্যাচ ছাড়েন চেজ। দ্বিতীয়বার জীবন পাওয়ার সময় নাঈমের সংগ্রহ ছিল ২৯ রান।
ওয়ারিকানের বলে আরেকটি ক্যাচ মিস করেন হাসান মাহমুদ। ৩১.২ ওভারে ক্যাচটি ধরতে ব্যর্থ হন ওয়ারিকান নিজেই। তখন হাসান মাহমুদের রান ছিল মাত্র ১। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে দিনের আলোচিত ইনিংসটি খেলেছেন নাঈমই। তার ব্যাটে আসে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট অর্ধশতক।
এর আগে টেস্ট ক্রিকেটে নাঈমের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল অপরাজিত ৩৫ রান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে একমাত্র টেস্টে সেই ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এবার ঘরের মাঠ মিরপুরে দলের কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে চার উইকেট শিকার করেছিলেন নাঈম। এবার বলের পর ব্যাট হাতেও দলের জন্য অবদান রাখলেন তিনি।
মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রান করার পর ২৭ রানের লিড পেয়েছিল। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২৪৫ রানে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিনেই বড় বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর দিন শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৭৯ রান। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয় তৃতীয় দিনের খেলা।
চতুর্থ দিনে শেষ পর্যন্ত নাঈমের ৫২ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ ১৪২ রান সংগ্রহ করে। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনের লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮ রান করেছে সফরকারীরা। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ১৬২ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১০টি উইকেট। ফলে শেষ দুই দিনের খেলায় মিরপুর টেস্টের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে দুই দলের বোলিং আক্রমণ।



