মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং-তিন বিভাগেই হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বৃষ্টি, আলোকস্বল্পতা ও বজ্রপাতের কারণে বারবার খেলা বন্ধ হলেও চার দিনেই জয় তুলে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। এই হারে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে দলের ব্যর্থতা স্বীকার করে অধিনায়ক শান্ত জানিয়েছেন, তিন বিভাগেই ভালো করতে পারেনি তার দল।
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের জয়ের পর টেস্ট ক্রিকেটে আর জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে এরপর তিনটি টেস্ট খেললেও জয়হীন থাকতে হয়েছে দলকে। সর্বশেষ মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় হারে আরও একবার ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতা। বৃষ্টি, আলোকস্বল্পতা ও বজ্রপাতের কারণে বারবার খেলা বন্ধ হলেও চার দিনেই জয় নিশ্চিত করেছে ক্যারিবীয়রা।
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর ম্যাকাই টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি দল। এবার ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারতে হলো ৮ উইকেটে। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।
মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের ব্যর্থতা নিয়ে ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন অধিনায়ক শান্ত। হঠাৎ করে টেস্টে এমন ছন্দপতনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং আমাদের প্রস্তুতি-দুটোই ভালো ছিল। খেলোয়াড়রা দলের জন্য ভালো করতে সত্যিই চেয়েছিল। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, এটি আমাদের জন্য একটি খারাপ দিন ছিল। কারণ, আগেই বলেছি যে তিনটি বিভাগেই আমরা ভালো করতে পারিনি। বিশেষ করে ফিল্ডিংয়েও।’
ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই। চারটি ক্যাচ মিস করেছেন স্বাগতিক ফিল্ডাররা। এর মধ্যে মুমিনুল হক একাই দুটি ক্যাচ ছাড়েন। শরীফুল ইসলাম জন ক্যাম্পবেলের কট অ্যান্ড বোল্ডের সুযোগ হাতছাড়া করেন। নাঈম হাসানও জীবন দেন ক্যাম্পবেলকে। একাধিকবার জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত ফিফটি তুলে নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি ওপেনার।
দ্বিতীয় ইনিংসেও ক্যাচ মিসের ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের। তবে ব্যাটিংয়ে পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় সেসব ভুল তেমন আলোচনায় আসেনি। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দলের এমন পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করে শান্ত বলেন, ‘আমার মতে এটা হতাশাজনক পারফরম্যান্স। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিনটি বিভাগেই নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি। বিষয়গুলো অবশ্যই দুশ্চিন্তার কারণ।’
প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়েও সেটিকে কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। শেষ দিকে নাঈম হাসানের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৫২ রান। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তার প্রথম অর্ধশতক। আগের দিন ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর উইকেটে এসে দলের লিড বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই অফ স্পিনার। দুই ইনিংস মিলিয়ে শান্তর সংগ্রহ মাত্র ২৯ রান। তাওহীদ হৃদয় ও তানজিদ হাসান তামিম ফিরেছেন শূন্য রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আসলেই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং যথেষ্ট বাজে হয়েছে। আমার মতে ক্রিকেটে মাঝেমধ্যে এমনটা হতেই পারে।’
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই স্পিনার রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিক্যান। অফ স্পিনে চেজ ৩৬ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট পাওয়া বাঁহাতি স্পিনার ওয়ারিক্যান দ্বিতীয় ইনিংসেও নিয়েছেন ৪ উইকেট। বিপরীতে বাংলাদেশের স্পিনাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি।
বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ দিকে নাঈমকে একাধিকবার জীবন দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডাররা। চেজের হাতে দুটি ক্যাচের সুযোগ গেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি ক্যারিবীয় অধিনায়ক। ওয়ারিক্যানও নিজের বলে ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে এসব সুযোগ পেয়েও বাংলাদেশের সংগ্রহ বড় করতে পারেননি অন্য ব্যাটসম্যানরা।
এই হারে বাংলাদেশের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সিরিজ বাঁচানোর লক্ষ্যে আগামী ৫ নভেম্বর সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামবে শান্তর দল।



