জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) পঞ্চম রাউন্ডের প্রথম দিনে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন ও নুরুল হাসান সোহান। দুজনের সেঞ্চুরিতে ময়মনসিংহের বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ২৮০ রান করেছে খুলনা। দিনের অন্য ম্যাচে রাজশাহীর হয়ে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রয়েছেন এস এম মেহেরব হাসান। আর বল হাতে চার উইকেট করে নিয়েছেন হাসান মুরাদ ও ইয়াসিন আরাফাত। তবে ভেজা আউটফিল্ডের কারণে রাজশাহীতে ঢাকা-বরিশাল ম্যাচের প্রথম দিনে টসই করা সম্ভব হয়নি।
খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আজ ময়মনসিংহের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি খুলনার। লাঞ্চের আগেই ৭৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। সেই বিপর্যয় সামাল দেন অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন ও নুরুল হাসান সোহান। পঞ্চম উইকেটে ১৬৭ রানের জুটি গড়ে খুলনাকে লড়াইয়ে ফেরান তারা। দিন শেষে ৮২ ওভারে খুলনার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৮০ রান।
চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৬৯ বলে ১২ চার ও ৫ ছক্কায় ১১৯ রান করেন মিঠুন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ১৭তম সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর আবারও তিন অঙ্কের দেখা পেলেন ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। অন্যদিকে ১৮০ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১০৪ রান করে অপরাজিত আছেন সোহান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ১৩তম শতক।
ময়মনসিংহের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ইয়াসিন আরাফাত। ৪০ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার।
বগুড়ায় রংপুরের বিপক্ষে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে রাজশাহী। ভেজা আউটফিল্ডের কারণে নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা পর শুরু হওয়া ম্যাচে ৪২ রানেই ৫ উইকেট হারায় দলটি। ইমন আলি ও অধিনায়ক প্রিতম হাসান রানের খাতা খুলতে পারেননি। সাব্বির হোসেন, নাঈম আহমেদ ও শাকির হোসেনও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়েন তরুণ অলরাউন্ডার এস এম মেহেরব হাসান। সানজামুল ইসলামের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর পর নিহাদ-উজ-জামানকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর আর কোনো বিপর্যয় হতে দেননি দুজন। তাঁদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৯৩ রান।
দিন শেষে ১৩২ বলে ১৩ চারে ৮২ রান করে অপরাজিত আছেন মেহেরব। তার সঙ্গে ২৮ রান নিয়ে অপরাজিত নিহাদ-উজ-জামান। ৫৯ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৫ রান করেছে রাজশাহী। রংপুরের হয়ে ৩৭ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মেহেদি।
অন্যদিকে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিলেটকে ২১৮ রানে অলআউট করেছে চট্টগ্রাম। বল হাতে চট্টগ্রামের হয়ে চার উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ৫০তম ম্যাচ খেলতে নেমে এমন পারফরম্যান্সে দলের বোলিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। অফ স্পিনার আশরাফুল হাসান নিয়েছেন ৩ উইকেট।
সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেছেন আশরাফুল হাসান। এ ছাড়া তোফায়েল আহমেদ ২৯, মুবিন আহমেদ ২৯ ও শাহানুর রহমান ১৬ রান করেন। শেষ দিকে সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও ইকবাল হোসেনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দুইশ পেরোয় সিলেটের সংগ্রহ। দশম উইকেটে মাত্র ২৩ বলে ৪১ রান যোগ করেন তারা। খালেদ করেন ২৮ এবং ইকবাল অপরাজিত থাকেন ১৩ রানে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পেয়েছে চট্টগ্রাম। উদ্বোধনী জুটিতে ৬৪ রান যোগ করেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান। তবে দিনের শেষ ওভারের এক বল আগে ২৮ রান করে আউট হন সাদিকুর। দিন শেষে ১৫ ওভারে ১ উইকেটে ৬৪ রান করেছে চট্টগ্রাম। ৩৫ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন জয়। প্রথম ইনিংসে সিলেটের চেয়ে ১৫৪ রান পিছিয়ে রয়েছে দলটি।
পঞ্চম রাউন্ডের প্রথম দিন অবশ্য মাঠে গড়ায়নি রাজশাহীর ঢাকা-বরিশাল ম্যাচ। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ভেজা আউটফিল্ডের কারণে টস করা সম্ভব হয়নি। ফলে ম্যাচটির প্রথম দিনের খেলা পরিত্যক্ত হয়েছে।



