বাংলাদেশ ক্রিকেটের মাঠের ব্যর্থতা কি কেবলই পারফরম্যান্সের ঘাটতি, নাকি এর পেছনে কাজ করছে অন্য কোনো চাপ? ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটের হার, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ড্র, ম্যাকাইয়ে ইনিংস ব্যবধানে হার-সর্বশেষ তিন টেস্টে জয়হীন বাংলাদেশ। ওয়ানডেতেও ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে তিন দলের মধ্যে সবার শেষে থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এমন কঠিন সময়ে ক্রিকেটারদের আর্থিক অনিশ্চয়তাকেই মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন নিবেদিত প্রাণ ক্রিকেট সংগঠক ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মালিক লুৎফর রহমান বাদল।
চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এতে বড় অঙ্কের আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ক্রিকেটারদের একটি অংশ। তার মতে, বিপিএল না হওয়ায় ক্রিকেটারদের আয়ে যে ধাক্কা লেগেছে, তার প্রভাব পড়ছে তাদের মানসিক অবস্থাতেও।
আজ গণমাধ্যমকে লুৎফর রহমান বলেছেন, ‘(বিপিএল না হওয়ায়) প্লেয়ারদের যে আয়ের ভাঁটা পড়েছে, স্বাভাবিকভাবে আর্থিকভাবে তারা বিধ্বস্ত। (অস্ট্রেলিয়াতে) দ্বিতীয় টেস্টে আমরা হেরেছিলাম। প্যাশনের জন্য ক্রিকেটের সাথে আমি যুক্ত। ৩০ বছর ধরে আমি সংগঠক হিসেবে আছি। আর্থিকভাবে ক্রিকেটারদের কীভাবে চিন্তামুক্ত রাখা যায় সে চিন্তাই আমি করেছি। আগে কিন্তু ফুটবলাররা ক্রিকেটারদের চেয়ে বেশি টাকা পেত। আমি কিন্তু মোহামেডানে দায়িত্ব যখন পাই, ২০০৯ সালে, মোহামেডান অনেক বছর চ্যাম্পিয়ন হয়নি। আমি চিন্তা করেছি কীভাবে আর্থিকভাবে প্লেয়ারদের আরও সচ্ছল করা যায়। এটা আমার ধারণা। এখান থেকেই চেষ্টা করেছি কীভাবে আর্থিকভাবে প্লেয়ারদের সচ্ছল করা যায়।’
তবে বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্তকে একেবারে অযৌক্তিক মনে করছেন না বাদল। গত আসরে আর্থিক লোকসানের কথা স্বীকার করলেও তার মতে, ব্যবসায়িক হিসাবের বাইরে গিয়ে ক্রিকেটারদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে বিকল্পভাবে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা সম্ভব ছিল। একই সঙ্গে দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিপিএল আয়োজন করা যেত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে লুৎফর রহমান বলেছেন, ‘গত বিপিএলে আমরা অনেক লস করেছি। ব্যবসা হিসেবে দেখলে লস হয়েছে, ব্যবসা হিসেবে এটা বন্ধ করা উচিত হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, ক্রিকেটারদের কথা চিন্তা করে বিপিএলকে অন্যভাবে (করতেও পারত)। গতবার ১-২ মাসের নোটিশে নতুন বোর্ড বিপিএল করেছে, এরপর অনেক প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমি আগেও বলেছি আমাদের স্ট্রাকচারটাই ভালো না। আগে আমরা ২-৩ নম্বরে ছিলাম, এখন মনে হয় বিপিএলের দিক দিয়ে একদম তলানিতে আছি অন্যান্য লিগের তুলনায়।’
বিপিএলের বাইরে ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন আয়োজন ডি থ্রি নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন লুৎফর রহমান। ম্যাচ ফি ও নিলাম পদ্ধতিতে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের সুযোগ তৈরি করায় বিসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তবে তার মতে, এই পদ্ধতি শুধু ডি থ্রি-তে সীমাবদ্ধ না রেখে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও চালু করা উচিত। তাতে ক্লাবগুলোর বিপুল অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের ব্যবস্থাও আরও কাঠামোবদ্ধ হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে লুৎফর রহমান বলেন, ‘এই বোর্ডকে ধন্যবাদ দেই। ডি থ্রি করছে, ম্যাচ ফি দিয়ে। যদি বিপিএলেও নিলাম হয়, সাকিব-তামিমরা কিন্তু কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে। এবার ডি থ্রি নিলামে ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে বিক্রি হয়েছে। এই প্লেয়ারকে কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই প্লেয়ারই কোটি পয়েন্টে বিক্রি হয়েছে। তার মনমানসিকতা কী হবে চিন্তা করেন। আমি বোর্ডকে অনুরোধ করব, ডিপিএলেও যদি পয়েন্ট সিস্টেম করে, তাহলে আমাদের কোটি কোটি টাকা তো বেচে যায়। ম্যাচ ফি দিয়ে যদি ক্রিকেটারদের নিতে পারি। বোর্ডকে অনুরোধ করব ডিপিএলেও যেন পয়েন্ট দিয়ে দল গঠন করা যায়।’
ডি থ্রি টুর্নামেন্টে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি-তিন সংস্করণের ম্যাচই রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ ভাগে ঢাকা ও বরিশালে মাঠে গড়ানোর কথা টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতাটির। ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন এই আয়োজন থেকে ক্রিকেটাররা কতটা আর্থিক সুবিধা পান, সেটিও এখন দেখার বিষয়।



