হংকং সিক্সেসে জয়হীনভাবেই এবারের আসর শেষ করল বাংলাদেশ। ১১তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে শেষ বলের নাটকীয়তায় ২ রানে হেরেছে টাইগাররা। নির্ধারিত ৬ ওভারে ১১৬ রান করেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরা দেয়নি। ফলে পুরো আসরে কোনো জয় ছাড়াই দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
আজ টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক ক্রুনাল পান্ডিয়া। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম দুই বলে কুলওয়ান্ত খেজরলিয়াকে টানা দুটি ছক্কা হাঁকান হাবিবুর রহমান সোহান। পরের বলেই মারেন চার। একই ওভারে সাব্বির রহমানও ছক্কা হাঁকালে প্রথম ওভারেই বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৪ রান।
দ্বিতীয় ওভারের শুরুতে ক্রুনাল পান্ডিয়াকে ছক্কা মেরে আক্রমণ অব্যাহত রাখেন সাব্বির। তবে পরের বলেই বিদায় নিতে হয় তাকে। ৪ বলে ১৩ রান করেন এই ব্যাটার। একই ওভারে গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়ে ফেরেন ওয়ান ডাউনে নামা মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। অন্যদিকে, ৬ বলে ১৮ রান করে বিদায় নেন সোহান। ফলে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এ অবস্থায় দলের হাল ধরেন অধিনায়ক আবু হায়দার রনি। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫ বলে ১২ রান করে ফিরে গেলে আরও বিপাকে পড়ে দল। আহরার আমিন পিয়ানকে রিটায়ার্ড আউট দেখিয়ে রনি নিজেই চালিয়ে যান ব্যাটিং। একপ্রান্ত আগলে রেখে ভারতীয় বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান তিনি। মাত্র ১৮ বলে ৬২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক। তার ব্যাট থেকে আসে তিনটি চার ও আটটি ছক্কা। তাতে নির্ধারিত ৬ ওভারে ১১৬ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ভারতের হয়ে ক্রুনাল পান্ডিয়া ২ ওভারে ২৫ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভারতও শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। শশাঙ্ক সিং ও রাহুল ত্রিপাথি মিলে গড়েন ৬৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। ১২ বলে ৩২ রান করে আহরার আমিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন রাহুল। তবে একপ্রান্তে ঝড় তোলেন শশাঙ্ক। মাত্র ১৫ বলে ৫০ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একটি চার ও সাতটি ছক্কা।
এরপর রাহুল তেভাটিয়া ও নিতিশ রানার সামনে জয়ের সমীকরণ মেলানোর চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বল তুলে দেওয়া হয় হাবিবুর রহমান সোহানের হাতে। শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় দুই দল।
শেষ বলে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২ রান। সেই বলে ফিল্ডিংয়ে ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাঙ্ক্ষিত রান তুলে নেয় ভারত। ফলে ২ রানের ব্যবধানে হারের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। অথচ শেষ বলে ভারতকে আটকাতে পারলে ছক্কার সংখ্যায় এগিয়ে থাকার সুবাদে টাই হলে জয়ী হতো বাংলাদেশ। শেষ মুহূর্তের সেই আক্ষেপ নিয়েই হংকং সিক্সেসের এবারের আসর শেষ করতে হলো টাইগারদের।



