পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে নতুন আত্মবিশ্বাস। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে সাদা পোশাকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম, নাহিদ রানাসহ দলের অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে প্রশংসিত হচ্ছে শান্তর দল। বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের চোখেও এই দল এখন বিশ্বের প্রথম সারির দলগুলোর একটি।
সবশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় ড্র করেছে বাংলাদেশ। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ঘরের মাঠেও টেস্টে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে দলটি। টেস্ট ইতিহাসে নিজেদের সেরা র্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দলের রেটিং পয়েন্ট ৭৮।
এশিয়ার পাঁচ টেস্ট খেলুড়ে দল বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফুল বাংলাদেশের টেস্ট দলকে বিশ্বের সেরা দুই-তিন দলের কাতারে রেখেছেন।
আশরাফুল বলেন, ‘পারফরম্যান্স তো অবশ্যই তাই বলে। যদি দলটা দেখেন, টেস্ট দল বিশ্বে দুই-তিনটা দলের মধ্যে একটা মনে করি। কারণ, এতগুলো ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার কিন্তু অন্যান্য দলে আপনি পাবেন না।’
বাংলাদেশের টেস্ট দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সংখ্যাকেও দলের সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন আশরাফুল। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫টি টেস্ট খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। মুমিনুল হক খেলেছেন ৮০, তাইজুল ইসলাম ৬২, মেহেদী হাসান মিরাজ ৬০ ও লিটন দাস ৫৬ টেস্ট। অধিনায়ক শান্তর টেস্ট সংখ্যা ৪৪।
দলের এই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশে যে ১৫ জনের দল নির্বাচন করা হয় এবং যে ১১ জন খেলেন, সব ক্রিকেটারই কিন্তু প্রায় ৪০, ৫০, ৬০, ১০০, ৮০টা করে ম্যাচ খেলেছেন। এরকম ম্যাচ খেলার সংখ্যা ক্রিকেটার আপনি খুব কম পাবেন অন্যান্য দলে। তো অবশ্যই এই মুহূর্তে আমাদের টেস্ট দলটা খুবই গর্ব করার মতো জায়গায় আছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের কথাও উঠে এসেছে আশরাফুলের বক্তব্যে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে ডারউইনে সাড়ে তিন দিনেই ৯ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাচে হাসান মাহমুদ নেন ৯ উইকেট এবং হন ম্যাচসেরা। শান্ত ও মিরাজের ব্যাটেও আসে ফিফটি। মিরাজ বল হাতে নেন পাঁচ উইকেট।
ডারউইনের সেই জয় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ক্রিকেটারদেরও মুগ্ধ করেছিল। আশরাফুল জানান, প্রথম টেস্ট চলাকালে ম্যাথু হেইডেন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হয়েছে এবং বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে তাঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
আশরাফুল বলেন, ‘প্রথম টেস্টে আসলে সবার সঙ্গেই দেখা হয়েছিল। হেইডেন, গিলক্রিস্ট, রিকি পন্টিং-সবার সঙ্গেই প্রত্যেকদিন দেখা হতো। তাঁরা খুবই খুশি হয়েছেন আমাদের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স দেখে। বিশেষ করে তিনটা ডিপার্টমেন্টই আমরা যেভাবে দাপট দেখিয়ে খেলেছিলাম।’
তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সুযোগ থাকলেও ম্যাকাই টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরে তা সম্ভব হয়নি। ইনিংস ও ৫১ রানে হারা সেই ম্যাচে বাংলাদেশের দুই ইনিংস শেষ হয়ে যায় যথাক্রমে ৬৪ ও ৯১ রানে। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও আড়াই দিনে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ।
তবু সামগ্রিক পারফরম্যান্সে আশাবাদী আশরাফুল। তাঁর হিসাবে, ডারউইন টেস্টের আগে পাঁচ টেস্টে চার জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ডারউইনে জয়ের পর ছয় টেস্টে এসেছে পাঁচ জয়।
আশরাফুল বলেন, ‘শেষ ১০ মাস যদি আপনি খেয়াল করে থাকেন, ডারউইন টেস্টের আগে আমরা পাঁচটা টেস্ট ম্যাচের চারটা জিতেছিলাম। ডারউইনে জেতার পরে ছয় টেস্টে আমাদের পাঁচটা জয়। তো আমাদের টেস্ট দলটা অনেক দিন ধরেই ভালো করছে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা খুবই খুশি হয়েছিলেন আমাদের পারফরম্যান্স দেখে।’



