লক্ষ্য ছিল সোনা জয়। শেষ পর্যন্ত ফাইনালেই উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে এশিয়ান গেমস থেকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে লাল-সবুজের ক্রিকেট দলকে। হতাশাজনক এই পারফরম্যান্সের পর নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে এই মুহূর্তে অধিনায়কের পদ ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এবারই প্রথম পুরুষ ক্রিকেটে কোনো পদক পেল না বাংলাদেশ। ২০১০ সালে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট যুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিটি আসরেই বাংলাদেশের পুরুষ ও নারী দল কোনো না কোনো পদক জিতেছে। ২০১০ সালের প্রথম আসরেই পুরুষ ক্রিকেট দল সোনার পদক জিতেছিল। পরবর্তী আসরগুলোতেও পদকের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসেই সেই ধারাবাহিকতার ছেদ পড়ল। এবার পুরুষ ও নারী-দুই ইভেন্টেই পদকহীন থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে ৬৩ রানের পরাজয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন লিটন। দুই ম্যাচেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়া অধিনায়ক শুরুতেই নিজের দায় স্বীকার করে বলেন, ‘আমার পারফরম্যান্স নট আপ টু দ্য মার্ক। আমি দুইটা ম্যাচেই ভালো পারফরম্যান্স করতে পারিনি। তবে এখনই অধিনায়কের পদ ছাড়তে চাই না। ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকে। একদিন ভালো হবে, একদিন খারাপ হবে। এখানে পদত্যাগের তো কিছু না।’
ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারানোর পর অন্তত ব্রোঞ্জ পদক জয়ের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেই সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে। এমন পরিণতিতে হতাশ লিটন বলেন, ‘খুবই খারাপ লাগছে। এখানে এসেছি, টার্গেট ছিল অনেক বড়। সেটা যখন হয়নি, তারপর আরেকটা অপশন ছিল। অনেক সুযোগ আমরা মিস করেছি। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি তাই এমনটা হয়েছে।’
এশিয়ান গেমসে দলের প্রস্তুতি ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। পর্যাপ্ত অনুশীলনের ব্যবস্থা এবং খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে লিটন বলেন, ‘ক্রিকেট খেলতে গেলে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। প্র্যাকটিসের প্রয়োজন হয়। এখানে সেই ফ্যাসিলিটি আছে? একটা ক্রিকেটার কি রুমের ভিতর সারাদিন বন্দি হয়ে থাকবে? একজন খেলোয়াড়ের খাওয়া-দাওয়া দিয়ে যখন কাভার আপ হচ্ছে না, তারা কি বাইরের খাবার খাবে না? তাদের তো ওই এনার্জিটা লাগবে। এশিয়ান গেমস থেকে যে খাবারটা আমাদের দেওয়া হচ্ছে, সেটা যদি আমাদের জন্য উপযোগী না হয়, একটা প্লেয়ার কি খাবে না? খাবার খেতে গেলে তো বাইরে যেতে হবে। তাই করেছে প্লেয়াররা।’
অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকলে ক্রিকেটারদের বাইরে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠত না বলেও মন্তব্য করেন লিটন। তিনি বলেন, ‘এখন যদি বলেন, ক্রিকেট খেলব, রোদের মধ্যে খেলা, কিন্তু সারাদিন এসি রুমে ঘুমাব-সেটা তো কেউ মানবে না। আমাদের কাছে যদি অপশন থাকত প্র্যাকটিস করার জন্য, আপনারা তো আমাদের মাঠেই দেখতে পারতেন যে, আমরা প্র্যাকটিসে আছি। কিন্তু অপশন নেই তো।’
তবে সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিকে দলের পরাজয়ের অজুহাত হিসেবে দেখাতে চাননি লিটন। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যর্থতার দায় দলের ওপরই রেখে তিনি বলেন, ‘এখন আমরা ভালো ক্রিকেট খেলিনি। আমি দায়বদ্ধতা স্বীকারই করছি, আমরা বাংলাদেশ টিম হিসেবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি।’
সোনা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পাকিস্তানের কাছে সেমিফাইনালে হেরে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারানোর পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্রোঞ্জের লড়াইয়েও বড় ব্যবধানে হেরেছে দলটি। ফলে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস ক্রিকেট থেকে কোনো পদক ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ পুরুষ দলকে।
শ্রীলঙ্কার কাছে এই হারের পর বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনও দলের ব্যর্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্শা চেয়েছেন। এবার অধিনায়ক লিটনও নিজেদের পারফরম্যান্সের দায় স্বীকার করলেন। তবে ব্যর্থতার পরও নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কথা স্পষ্ট করেছেন তিনি।



