নতুন সাজ, নতুন সংযোজন আর বাড়তি আর্থিক প্রাপ্তির আবহে শুরু হলো ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল)। দেশের চার ভেন্যুতে একযোগে শুরু হওয়া প্রথম দিনে ছিল বেশ কিছু নতুনত্ব। তবে মাঠের ক্রিকেটে রোমাঞ্চ ছিল তুলনামূলক কম। প্রথম দিনে কোনো ব্যাটার সেঞ্চুরি পাননি, কোনো বোলারও নিতে পারেননি পাঁচ উইকেট। এমনকি কোনো দল অলআউটও হয়নি।
আজ প্রথম দিন শেষে সবচেয়ে দাপুটে অবস্থানে খুলনা। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৩২৮ রান তুলে দিন শেষ করেছে তারা। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই ব্যাটারকে। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ৮৯ রানে রুয়েল মিয়ার বলে শহিদুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন। এর কিছুক্ষণ পর কালাম সিদ্দিকীও ৯২ রানে ইফতেখার হোসেন ইফতির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। মিঠুন ও কালামের ব্যাটে গড়া ১৫০ রানের জুটিটি ভাঙার পরও বড় সংগ্রহ পেয়েছে খুলনা। আফিফ হোসেন ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।
চট্টগ্রামের বিপক্ষে রাজশাহীর শুরুটাও ছিল দারুণ। বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ওপেনার হাবিবুর রহমান ও সাব্বির হোসেন মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১২৭ রান। হাবিবুর ৭৫ এবং সাব্বির ৭১ রান করে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ২৯০ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে রাজশাহী।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সিলেটের বিপক্ষে ময়মনসিংহও বড় সংগ্রহের ভিত গড়েছে। দিন শেষে তাদের রান ৭ উইকেটে ২৭৩। ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন ৭০ রান করেন। আব্দুল মজিদও সমান ৭০ রান করে আউট হয়েছেন। আল আমিন জুনিয়রের ব্যাট থেকে এসেছে ৩০ রান। শেষ বিকেলে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকা আবু হায়দার রনি দলকে অলআউটের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিন শেষ করেছেন।
মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অবশ্য বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। ঢাকার বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেটে ২২৯ রান করেছে তারা। দুই ওপেনার অনিক সরকার ও মিম মিলে ১১৪ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন। অনিক ৫০ এবং মিম ৬৩ রান করেন। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান করেন ৩৮ রান। ভালো শুরু পেয়েও সেটিকে বড় সংগ্রহে রূপ দিতে পারেনি রংপুর।
জাতীয় লিগের প্রথম দিনটি মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি নতুন কিছু সংযোজনের কারণেও আলাদা হয়ে উঠেছে। আট দলের অধিনায়কই টস করতে নেমেছেন ব্লেজার পরে। বরিশালের অধিনায়ক ইফতেখার রহমানের বয়স মাত্র ২৩ বছর, এবারের লিগে তিনিই সবচেয়ে কম বয়সী অধিনায়ক। খুলনার অভিজ্ঞ অধিনায়ক মিঠুনের সঙ্গে টস করতে নেমে তিনিও নতুন এই অভিজ্ঞতার অংশ হয়েছেন। অধিনায়কদের ব্লেজারের পাশাপাশি আলাদা ক্যাপ ও হেলমেটও এবারের লিগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শুধু সাজসজ্জায় নয়, আর্থিক দিক থেকেও বদল এসেছে জাতীয় লিগে। বছরখানেকের ব্যবধানে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, বেড়েছে ক্রিকেটারদের বেতনও। তবে বাড়তি সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে পারফরম্যান্সের চাপও থাকছে। আগামী ৭ অক্টোবর প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় লিগের সেকেন্ড ইলেভেন’। মূল দলে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না করতে পারলে ক্রিকেটারদের সেখানে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে। আবার তিন দিনের এই সমান্তরাল টুর্নামেন্টে ভালো করলে সেখানকার ক্রিকেটারদের মূল জাতীয় লিগের দলে উঠে আসার সুযোগও থাকবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা তারকা ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি প্রথম দিনের ক্রিকেটে প্রভাব ফেলেছে। চোট ও জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণে রংপুরের বেশির ভাগ মূল ক্রিকেটারও খেলছেন না। অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও আশপাশে থাকা বোলারদের অনেকেই ছিলেন না প্রথম রাউন্ডে। ফলে ব্যাটসম্যানদের জন্য তুলনামূলক অনুকূল পরিস্থিতি থাকার প্রত্যাশা থাকলেও প্রথম দিন কোনো সেঞ্চুরি দেখা যায়নি।
দিন শেষে তাই জাতীয় লিগের নতুনত্বই হয়ে থাকল সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। চার ম্যাচের কোথাও কোনো দল অলআউট হয়নি, ব্যাটারদের ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি কিংবা বোলারদের পাঁচ উইকেটও আসেনি। তবে খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দ্বিতীয় দিনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে, আর রংপুরকে অপেক্ষা করতে হবে প্রথম দিনের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য।



