পদকের স্বপ্ন নিয়ে এশিয়ান গেমসে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ফাইনালের টিকিট না পেলেও ব্রোঞ্জ পদক জয়ের প্রত্যাশা ছিল দলের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। নিশিনে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরে এশিয়ান গেমস থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে লিটন দাসের দলকে। এর মধ্যেই ম্যাচের আগের দিন ক্রিকেটারদের হোটেলের বাইরে ঘোরাঘুরি এবং খাবারের জন্য বাইরে যাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটারদের হোটেলের বাইরে যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল আগেই। ম্যাচের আগের দিন তাওহীদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন ও সাইফ হাসানসহ কয়েকজন খেলোয়াড়কে হোটেলের বাইরে দেখা যায়। খাবারের জন্যও খেলোয়াড়দের বাইরে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। তবে বিষয়টিকে সরাসরি শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে দেখার আগে এশিয়ান গেমসে দলের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস।
লিটনের দাবি, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের পর্যাপ্ত অনুশীলন সুবিধা ছিল না। ফলে খেলোয়াড়দের সারাদিন হোটেলের কক্ষে আটকে রাখার সুযোগও ছিল না। বাইরে যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট খেলতে গেলে অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। আপনারা জানবেন না, কারণ আপনারা ওইভাবে ক্রিকেট খেলেননি। প্র্যাকটিসের প্রয়োজন হয়। এখানে কি সেই সুবিধা আছে? নেই। একটা খেলোয়াড় কি সারাদিন রুমের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকবে?’
খাবারের সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার ভাষ্য, গেমস কর্তৃপক্ষের দেওয়া খাবার খেলোয়াড়দের প্রয়োজন মেটাতে পারছিল না। এ প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘আমাদের যখন ১০ দিন ধরে দেওয়া খাবার দিয়ে প্রয়োজন মিটছে না, তখন কি খেলোয়াড় বাইরে থেকে খাবার খাবে না? তাদের তো এনার্জি দরকার। এখান থেকে ফেডারেশন বা এশিয়ান গেমস কর্তৃপক্ষ যে খাবার দিচ্ছে, সেটা যদি আমাদের জন্য উপযোগী না হয়, তাহলে একজন খেলোয়াড় কী করবে? খেতে গেলে তো বাইরে যেতে হবে। খেলোয়াড়রা সেটাই করেছে।’
শুধু খাবারের প্রয়োজনেই নয়, পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ না থাকাকেও ক্রিকেটারদের বাইরে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন লিটন। তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি বলেন, ক্রিকেট খেলব, রোদের মধ্যে খেলব, কিন্তু সারাদিন এসি রুমে ঘুমাব; সেটাও তো আপনারা গ্রহণ করবেন না। আমাদের কাছে যদি প্র্যাকটিস করার সুযোগ থাকত, তাহলে হয়তো আপনারা মাঠেই আমাদের দেখতে পেতেন। কিন্তু সেই সুযোগ নেই। এটাই বিষয়।’
তবে প্রধান কোচ সালাহউদ্দিনের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন সুরও পাওয়া গেছে। সংবাদ সম্মেলনে হৃদয়-রিশাদদের বাইরে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা কখনোই হতে পারে না। এখানে অন আগের একটি ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই বলে জানান, ‘না, দেখুন,েকে হয়তো হোটেলের নিচে নামছে, সেটা তো আসলে।’
তবে ক্রিকেটারদের মনোযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাননি সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এটা কখনোই বলব না যে তাদের মনোযোগ ছিল না। আমি মনে করি, খেলোয়াড়রা এখানে সবাই দেশের জন্যই খেলতে এসেছে।’
ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত কি না জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন বিষয়টি আগের একটি ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই বলে জানান, ‘না, দেখুন, এটা একেবারে প্রথম দিনে যেটা হয়েছিল, সেটার জন্য বোর্ড তাদের শাস্তি দিয়েছে। সেই শাস্তির একটা ফয়সালাও হয়েছে। সেটাকে আবার নতুন করে তোলার কোনো দরকার মনে করি না।’
মাঠের বাইরের এই আলোচনার মধ্যেই মাঠের পারফরম্যান্সেও হতাশ করেছে বাংলাদেশ। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবেলে প্রথম সারির ক্রিকেটার ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন। বিপরীতে বাংলাদেশ খেলেছে প্রায় পূর্ণশক্তির দল নিয়ে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে দুই দলের শক্তির সেই পার্থক্য দেখা যায়নি। ব্যাটিংয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ, আর বোলিংয়ে রান আটকে রাখতেও পারেনি।
২০ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং-বোলিং এবং ক্রিকেটীয় পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রেখেই এশিয়ান গেমস মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে ৬৩ রানের বড় হারে এশিয়ান গেমস শেষ করতে হয়েছে দলকে।



